সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট : গভর্নরকে ইসির চিঠি
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৪ এএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঋণখেলাপির তথ্য যাচাইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো ঋণখেলাপি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে তা দ্রুত যাচাই করতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান ইতোমধ্যেই গভর্নরের কাছে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই বিকেল ৪টার দিকে প্রার্থীদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন, তাই এই যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসি আরও জানিয়েছে, আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। এই সময়ের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মতামত বা তথ্য প্রদান করতে হবে। বাছাইয়ের সময় তথ্য দেওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যাংক থেকে একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি বা কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীর বিষয়ে তথ্য না পাওয়া যায়, তবে কমিশন ধরে নেবে যে ওই প্রার্থীর নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার মতো কোনো ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা নেই।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত ৫০টি আসনের ভাগাভাগি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চা একটি আসন পেতে যাচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দলগুলো যদি নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রার্থী না দেয়, তবে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত জোট ইতোমধ্যেই তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত ৪৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যাদের মধ্যে সানজিদা ইসলাম তুলি, নিলুফার চৌধুরী মনি ও নিপুন রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কোনো বিশেষ জটিলতা বা অতিরিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষেই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
এমআর/টিকে