‘আমি তো ক্রিমিনাল নই’, রাহুলের মৃত্যুর ২৩ দিন পরে মুখ খুললেন শ্বেতা
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৯ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
টলিউডে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং এখনো সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্র এলাকায় শুটিং চলাকালীন এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় একই শুটিং ইউনিটে উপস্থিত ছিলেন শ্বেতা মিশ্রও। ঘটনার পর থেকে ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনার ঝড়, পাশাপাশি তৈরি হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরে শ্বেতার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে রাহুলের খোঁজ করতে দেখা যায়। সেই ভিডিও ঘিরে পরে নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ নিয়ে তিনি জানান, সেই মুহূর্তের পরে তিনি সামাজিক মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে আছেন এবং কোথাও কোনো পোস্টও করেননি।

শ্বেতার অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। এমনকি তাঁকে ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে বারবার দোষারোপ করা তাঁর মানসিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
অভিনেত্রীর কথায়, তিনি নিজেকে কোনোভাবেই অপরাধী মনে করেন না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই দুর্ঘটনায় তাঁর কোনো ভূমিকা নেই এবং তিনি “অপরাধী নন”। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মানসিকভাবে তিনি এখনও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে।
ঘটনার পর থেকে শ্বেতাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। এমনকি রাহুলের শেষকৃত্যেও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। তবে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেই সময় তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন।
এই ঘটনার পর টলিউডে শুটিং নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত ও অভিযোগের মধ্যেই ধীরে ধীরে সামনে আসছে নানা দিক। তবে সব কিছুর মাঝেও শ্বেতা মিশ্রের এই স্বীকারোক্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিনোদন মহলে।
পিআর/টিকে