ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ফ্রান্সের ক্ষতি ৬০০ কোটি ইউরো
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫০ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ফ্রান্সের অন্তত ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে বলে দেশটির অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার কিছু ব্যয় স্থগিত করার পাশাপাশি নতুন সহায়তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার আরটিএল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেসকিউর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ডের মুনাফার হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে সরকারের ঋণের ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে; যা বাজেটে বাড়তি ৩৬০ কোটি ইউরোর বোঝা তৈরি করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সরকার সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা মোকাবিলায় নেওয়া সব পদক্ষেপের ব্যয় বাজেট থেকেই সমন্বয় করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি কিছু ব্যয় স্থগিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। তবে তিনি বলেন, সরকার সরাসরি বাজেট কাটছাঁট করবে না। দেশটির অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদের সহায়তায় নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন। বিশেষ করে যারা কাজের প্রয়োজনে যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি বর্তমানে ইউরোজোনের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। দেশটির সরকার বলেছে, কেবল অতিপ্রয়োজনীয় এবং নির্দিষ্ট খাতের জন্যই সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া দেশটির সরকার এখন পর্যন্ত কেবল পরিবহন, মৎস্য ও কৃষি খাতের জন্য জরুরি জ্বালানি ভর্তুকিতে মনোযোগ দিয়েছে।
এদিকে, দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকরা জ্বালানি তেলের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ ভ্যাট কমানোর দাবি তুলেছেন। যা ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থীরা জ্বালানি তেলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস/টিকে