মতবিরোধ নিরসনে রাজপথ নয় সংসদে আলোচনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৪ এএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনীতি সরকারে বিলীন হয়ে গেছে এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন বিরোধীদলকে মোকাবিলায় পাল্টা কর্মসূচি থাকছে না বিএনপির। তবে, সরকারের কর্মকাণ্ড সভা সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রাজপথ ছেড়ে সংসদে আলোচনা করে মতবিরোধ নিরসনে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদলের মতভেদ সংসদ ছাপিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাইরেও। আলোচনার জন্য বিশেষে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছে জাামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তাদের দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের। দাবি আদায়ে কর্মসূচিও দিয়েছে। তবে রাজপথ ছেড়ে সংসদেই আলোচনার কথা বলছে বিএনপি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি মানেই রাস্তায় আন্দোলন, রাস্তায় থাকা এই যে বিষয়গুলো আছে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। কারণ আমি মনে করি, এটা আরেক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা। মানে হয় না চাপ সৃষ্টি করার।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা চাই, বিশেষভাবে চাই সেটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। সেজন্য রাস্তায় না নেমে আমরা আলোচনার মাধ্যমে শেষ করি। সংসদে বসে শেষ করি, তাহলে সেটা অনেক ফলপ্রসূ হবে। বিরোধীদলকে আমরা তো সেই প্রস্তাব বার বার দিয়েছি। আসুন সংসদে বসে সেই আলোচনাগুলো করি। রাজনৈতিক নেতারা যদি একটা জায়গাতে একমত হয় যে, আমরা যা কিছু করব সংসদের মধ্যে করব। আমরা উচ্চস্বরে কথা বলব, ওয়াকআউট করব আবার চিৎকার চেঁচামেচি করব কিন্তু রাস্তায় যাবো না। তাহলে হয় কী একটা সংস্কৃতি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও জানান, বিরোধীদলকে মোকাবিলায় পাল্টা কোনো কর্মসূচি দেবে না তাদের দল।
তিনি বলেন, রাস্তায় আমরা কোনো কর্মসূচি দেব না। বড়জোর যেটা করতে পারি, জনগণকে জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার বাড়িয়ে দিতে পারি। জনগণের সঙ্গে কথা বলা বাড়িয়ে দিতে পারি। মানুষকে বোকা মনে করার তো কোনো কারণ নেই। মানুষ খুব ভালো বোঝে। আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে মানুষ আমাদের ভোট দিবে না পরবর্তী নির্বাচনে।
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তেমন একটা চোখে পড়ছে না, তবে তা মানতে নারাজ মহাসচিব।
তিনি বলেন, আমি এটা বিশ্বাস করি না। সরকারে আসার পর থেকে দল নিয়ে কাজ হচ্ছে, কীভাবে দলকে আরও সুসংগঠিত করা যায়। কীভাবে তাহলে সারা দেশের মধ্যে আমাদের অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে। কাজ হচ্ছে বলেই তো দল আমাদের আছে। এটা আরও অ্যাক্টিভেট করতে হবে, আরও সক্রিয় করতে হবে, শক্তিশালী করতে হবে, সেটা তো করতেই হবে।
সংগঠন গতিশীল করতে মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা নেতাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সময়ই তা বলে দেবে।
কেএন/এসএন