© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৩ এপ্রিল থেকে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ

শেয়ার করুন:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৩ এপ্রিল থেকে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৪ পিএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচন। এ দফায় রাজ্যটির উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোট নেয়া হবে।

মঙ্গলবারও আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে একটি রোড শোয়ে অংশ নিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কুলটি আসনের বিজেপি প্রার্থী পোদ্দারের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই শেষদিনের প্রচারে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে জনসংযোগে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও চারটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

যদিও মঙ্গলবার প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ দিনে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই হামলায় তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় প্রার্থীর গাড়ি এবং একাধিক মোটরবাইক। এই হামলায় আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক আহত হন। পুরো ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভায়। পুলিশের বিরুদ্ধে হুমায়ুনের প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। আর তাতেই পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রার্থী।

অন্যদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামের এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টু নন্দীগ্রামের মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ। কোনো রকম বিরতি ছাড়াই, তা শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখের মতো এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।

আসন্ন নির্বাচনে একদিকে যেমন মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ (এজেইউপি) অন্য দলগুলোও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও বেশিরভাগ আসনেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে।

প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানুষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাটলিট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ), সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।

তফশিল ঘোষণার পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই আসনগুলোতে যেমন প্রতিটি দলের প্রার্থীরা জনসংযোগ করেছেন, তেমনি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা প্রচারকরাও প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না), ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।
কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর), আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর ও নওদা)।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি (২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন। রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

প্রথম দফায় ১৫২ আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলোর ভেতরে এবং বাইরে লাগানো থাকবে অন্তত দুটি ক্যামেরা এবং ওয়েব ক্যাস্টিং সফটওয়্যার। প্রতিটি বুথ থেকে ওয়েবকাস্টিং করা হবে। তার মাধ্যমেই কন্ট্রোল রুমে থাকা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তারা সরাসরি ওই বুথ থেকেই ভিডিও দেখতে পারবেন। কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করার জন্য কাজে লাগানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) । পাশাপাশি ২ হাজার ১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন রাখা হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালীন বুথ দখল বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই, এই বিশেষ বাহিনীকে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হবে। সবচেয়ে বেশি ২৮৮টি কিউআরটি থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অশান্তি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও করা নজরদারি থাকছে কমিশনের। এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ভিডিও পোস্ট করে কোনো রকম গুজব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফায় ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। আর ভোট গণনা আগামী ৪ মে।

আরআই/ এসএন

মন্তব্য করুন