চীনের ‘কথায়’ আকাশপথ বন্ধ, সফর বাতিল তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩১ পিএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফর বাতিল করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। চীন বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তার বিমানকে আকাশপথ ব্যবহার করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।
তাইওয়ানের এক কর্মকর্তা জানান, ভারত মহাসাগরের তিন দেশ- সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার প্রথমে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে চীনের 'তীব্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের' কারণে সেই অনুমতি বাতিল করে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। তবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দেশটি।
আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল হওয়ায় কোনো তাইওয়ান নেতার বিদেশ সফর বাতিল হওয়ার মত ঘটনা প্রথমবারের মত জনসম্মুখে এলো।এসওয়াতিনি আফ্রিকায় তাইওয়ানের একমাত্র কূটনৈতিক মিত্র। দেশটির পুরোনো নাম ছিল সোয়াজিল্যান্ড।
বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়। এর বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ছোট দেশ। চীন দীর্ঘদিন ধরে 'এক চীন নীতি' অনুসরণ করে আসছে। তাদের দাবি, তাইওয়ান চীনের অংশ।
তবে তাইওয়ান নিজেদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। ভবিষ্যতে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজন মনে করলে শক্তিও ব্যবহার করতে পারে। চীনা সরকার লাই চিং-তে-কে আগে 'সমস্যা সৃষ্টিকারী' এবং 'শান্তি বিনষ্টকারী' বলে আখ্যা দিয়েছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লাই চীনের এই চাপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরো বলেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তাইওয়ানকে থামানো যাবে না।
এসওয়াতিনির সরকার সফর বাতিল হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে এটাও জানিয়েছে এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না। লাই সেখানে রাজা এমসোয়াতি তৃতীয়ের সিংহাসনে আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর বলেছে, 'এক চীন নীতি' বজায় রাখতে অন্যান্য দেশের অবস্থানকে তারা গুরুত্ব দেয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো দাবি করেছে, তাইওয়ান কোনো স্বাধীন দেশ নয়, বরং চীনের অংশ। তাই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলে আলাদা কোনো বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান বিশ্বে স্বীকৃত হওয়া উচিত না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা এই ঘটনাকে চীনের চাপ হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা তাইওয়ানের পাশে আছে।
রয়টার্স জানায়, মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ মরিশাসের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, দেশটি চীনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
এমআর/টিকে