© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বৈষম্যের শিকার ‘পঞ্চায়েত’ অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী

শেয়ার করুন:
বৈষম্যের শিকার ‘পঞ্চায়েত’ অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৬ পিএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
পর্দায় সহজ-সরল অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করলেও বাস্তব জীবনে ছিল বঞ্চনা আর অপমানের দীর্ঘ লড়াই। ‘পঞ্চায়েত’ ধারাবাহিকের ‘নতুন সচিব’ চরিত্রে নজর কাড়া অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী সম্প্রতি নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনে নাড়িয়ে দিলেন অনুরাগীদের।

এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। কর্ণাটকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা এই অভিনেতার জীবনে ছোটবেলা মানেই ছিল জাতপাতের বিভাজন আর তীব্র দারিদ্র্য। তার কথায়, আজও সেই গ্রামে সমাজ বিভক্ত উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণে। দলিতদের জন্য আলাদা বসবাসের জায়গা নির্ধারিত, যা আধুনিক সময়েও বদলায়নি।



শৈশবের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বিনোদ জানান, মাত্র বারো বছর বয়সে বাবার সঙ্গে একবার হোটেলে খেতে গিয়ে অপমানের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। খাবার শেষে নিজের থালা নিজেকেই ধুতে হয়েছিল, এমনকি তার জন্য আলাদা টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গ্রামের কিছু মন্দিরে তাঁদের প্রবেশাধিকারও ছিল না।

দারিদ্র্যের কষ্টও ছিল নিত্যসঙ্গী। উৎসব মানেই আনন্দ নয়, বরং হতাশা এমনটাই ছিল তাঁর ছোটবেলার অনুভূতি। অন্যদের মতো আনন্দ করে উৎসব পালনের সামর্থ্য ছিল না তাঁদের পরিবারের। কারও সাহায্য পেলে তবেই উৎসবের রেশ ছুঁতে পারতেন তাঁরা। সেই সময় প্রায়ই বাবা-মায়ের চোখে জল দেখেছেন তিনি।

অভিনয়ের জগতে জায়গা করে নেওয়ার আগে জীবিকার তাগিদে নানা কাজও করতে হয়েছে তাকে। একসময় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেও কাজ করেছেন। কঠোর পরিশ্রমে পায়ে ফোসকা পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তার মতে, সমাজ এখনও মানুষের কাজের ধরন দিয়েই সম্মান বিচার করে।

ছোট ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পরিচিতি পান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও বড় কাজের সুযোগ আসে, এবং নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন বিভিন্ন চরিত্রে।

আজ সাফল্যের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেও অতীতের সেই কঠিন দিনগুলো ভুলে যাননি বিনোদ সূর্যবংশী। বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে, লড়াই করতে শিখিয়েছে। তাঁর এই জীবনকথা শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়, বরং সমাজের এক কঠিন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন