© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান ইস্যুতে সহায়তা না করায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার করুন:
ইরান ইস্যুতে সহায়তা না করায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৪ পিএম | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেয়ার অভিযোগে কিছু ন্যাটো মিত্র দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে স্পেনের ন্যাটো সদস্যপদ বাতিলের পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক অভ্যন্তরীণ ইমেইল থেকে এমনটা জানা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদন মতে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা এবং যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।

ইমেইলটিতে কিছু মিত্র দেশের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ তারা ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার, অবস্থান নেয়া এবং আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনীহা বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শাস্তি হিসেবে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

তবে এই ইমেইলে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার মতো কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। এছাড়া ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই বিষয়ে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলি উইলসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো মিত্রদের জন্য সবকিছু করলেও, বিপদের সময় তারা আমাদের পাশে ছিল না।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের জন্য বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প নিশ্চিত করতে কাজ করছে পেন্টাগন, যাতে মিত্ররা কেবল নামমাত্র শক্তি না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। যার প্রেক্ষিতে প্রতিরোধমূলক হামলার পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রণালী খুলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করে।

এরপর থেকেই ন্যাটো মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। এমনকি ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলেও হুমকি দেন। এ বিষয়ে গত ১ এপ্রিল রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি যদি আমার জায়গায় থাকতেন, তাহলে কি তাই করতেন না?’

তবে পেন্টাগনের ইমেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরাসরি বেরিয়ে যাওয়া বা ইউরোপের ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার কোনো পরামর্শ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এই ইমেইলের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো মিত্রদের জন্য এত কিছু করার পরেও তারা আমাদের পাশে ছিল না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে যেন প্রেসিডেন্টের কাছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প থাকে যাতে আমাদের মিত্ররা আর শুধু কাগজের বাঘ হয়ে না থাকে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।’

যেসব দেশ ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করে আসছে স্পেন তাদের অন্যতম। এমনকি এই যুদ্ধে ‍অংশ নেয়া মার্কিন ও ইসরাইলি বিমানগুলোর জন্য আকাশসীমা ও তাদের কোনও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

এতে চরম ক্ষুদ্ধ হন ট্রাম্প। তিনি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। মার্চ মাসের শুরুর দিকে তিনি এক বক্তব্যে বলেন, ‘স্পেন ভয়াবহ আচরণ করেছে। আমি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে বলেছি স্পেনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।’

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন