দেবিদ্বারে খাল দখলে বন্ধ পানি চলাচল, বিপাকে ৬০০ বিঘা জমির কৃষক ও জনজীবন
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫২ পিএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
ভানী, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি গ্রামের নাম। এই গ্রামের একটি খাল দখল হতে হতে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যে করানে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রামের প্রধান যাতায়াতের সড়কও।
দেখা যায়, ভানী গ্রামে অন্তত অর্ধশত খাল ও নালা রয়েছে। এসব খাল-নালার মধ্যে অন্যতম ছিল ভানী মাদ্রাসা এলাকার খালটি, যার এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। খালের কিছু অংশে গড়ে উঠেছে বাড়িঘর, কোথাও হয়েছে দোকানপাট, আবার কোথাও ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় থেকেই খালটি দখল হওয়া শুরু হয়। যা ৫ আগস্টের পর কিছুটা থেমেছে। তবে এই দখলের কারণে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্তত ৬০০ বিঘা জমিতে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। বাড়িঘরের পানিও উঠে আসে সড়কে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারেন না। ফলে বাড়তি খরচ করে সীমিত আকারে কিছু জমিতে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের আবুল কালাম, রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন 'একসময় এই খাল থেকেই সহজে জমিতে পানি সরবরাহ করা যেত। কিন্তু বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বসতবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেচের জন্য এখন অতিরিক্ত খরচ করে গভীর নলকূপ বা মোটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যা তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’
আবু কাওসার নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এই খালটি দখল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বাড়িঘরের পানি সড়কে উঠে আসে। ফলে চলাচলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করা হোক।’
দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দেবিদ্বারের দুটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের জন্য এসিল্যান্ড অফিস থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভানী গ্রামে খাল দখল হয়ে থাকলে, এলাকাবাসী আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
টিকে/