© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফ্লোরিডায় উদ্ধার হলো মরদেহের আরেকটি অংশ, বৃষ্টির কি না জানা যাবে পরীক্ষার পর

শেয়ার করুন:
ফ্লোরিডায় উদ্ধার হলো মরদেহের আরেকটি অংশ, বৃষ্টির কি না জানা যাবে পরীক্ষার পর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩১ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে এলাকার জলপথ থেকে আরও একটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ যে জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে (২২ মাইল) নতুন করে এ মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় গভীর রাতে ফ্লোরিডার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্যমতে, দেহাবশেষটি ‘ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকার কাছাকাছি’ উদ্ধার করা হয়েছে, যা হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ অংশের নিকটে অবস্থিত।

পুলিশ বলেছে, মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার করা দেহাবশেষ নারীর নাকি পুরুষের, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মরদেহের খণ্ডিত অংশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন বৃষ্টি। পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ফ্লোরিডার ট্যাম্পার কাছে একটি সেতুর ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এরপর লিমনের ২৬ বছর বয়সী রুমমেট হিশাম আবুঘরবেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পরিকল্পিত ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ট্যাম্পা বে’র হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ ‘একাধিক কালো ইউটিলিটি ট্র্যাশ ব্যাগের মধ্যে পচন ধরা অবস্থায়’ পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের ধারণা, বৃষ্টির মরদেহও ‘একই কায়দায় সরিয়ে ফেলা হয়’।

তবে এই শিক্ষার্থীকে হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যের কারণ প্রসঙ্গে সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহ-পরিচালক ডা. ব্রায়ানা ফক্স বলেন, ‘তদন্তে পাওয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রমাণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়; বরং তাৎক্ষণিক রাগের বিস্ফোরণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত একই বয়সী এবং পূর্বপরিচিত হওয়ায় সাধারণত এমন ঘটনায় অর্থনৈতিক বিরোধ, ঈর্ষা বা সামান্য কোনো ঝগড়াই বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।’

লিমন ছিলেন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী এবং নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলে অধ্যয়নরত ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ দেখা যায়।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন