© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তারেক রহমানের ‘কোমর ভেঙে’ দেওয়ার ‎অভিযোগ অস্বীকার করলেন মাসুদ উদ্দিন

শেয়ার করুন:
তারেক রহমানের ‘কোমর ভেঙে’ দেওয়ার ‎অভিযোগ অস্বীকার করলেন মাসুদ উদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১১ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলোচিত সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওয়ান ইলেভেনের সময় ‘কোমর ভেঙে’ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎জুলাই আন্দোলের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আজ সোমবার রিমান্ড শুনানিতে এ অস্বীকৃতি জানান তিনি।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকে ঝুলিয়ে পিটিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে দেওয়ার কারিগরদের একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

‎তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’

‎‎ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি হয়।‎

‎রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গত ২৩ মার্চ মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় পরদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। একই মামলায় গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

‎‎এরপর গত ৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে চার দিন এবং গত ১১ এপ্রিল আরও চার দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়।

‎ওই রিমান্ড শেষে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন।

‎আবেদনে বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় গত ১২ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে আসামি অসুস্থবোধ করলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৭ এপ্রিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত কাজে সহায়ক হচ্ছে। তার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই করার জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন। ‎শুনানিকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এজলাসে তোলা হয়।

‎‎আসামি অসুস্থ ও সয়স্ক মর্মে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

‎‎রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের মুল কারিগরদের একজন এ আসামি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পিটিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে দেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

‎‎সুমন বলেন, তিনি যদি এত ইনোসেন্ট হতেন, তাহলে হাসিনার কাছে নমিনেশন চাইতেন না। হাসিনার কাছে জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন চান। হাসিনা তাকে পরামর্শ দেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করার। জাতীয় পার্টিতে না গেলে মানুষ সব বুঝে যাবে। হাসিনা এক দিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠেননি। তাদের কারণে কোনো বিভাগ সঠিকভাবে চলতে পারেনি।
‎‎শুনানি নিয়ে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

‎মামলার বিবরণ অনুযায়ী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। এ সময় আসামির নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৬ জুলাই দেলোয়ারের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।

এসএন 

মন্তব্য করুন