মিঠুন-শ্রীদেবীর বিয়ের খবরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্ত্রী যোগিতা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৩ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়। বলিপাড়ার অলিতে-গলিতে তখন একটাই গুঞ্জন—মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবীর প্রেম। তবে এই গল্পের প্রেক্ষাপট ছিল বেশ জটিল। কারণ ততদিনে মিঠুন কেবল একজন সফল নায়কই নন, বরং অভিনেত্রী যোগিতা বালির সঙ্গে ঘরোয়া জীবনে থিতু হওয়া এক সংসারী মানুষ।
মিঠুনের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন শুরু হয় হেলেনা লিউকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর। ১৯৮০ সালে হেলেনার সঙ্গে সাত মাসের দাম্পত্য শেষ করে মিঠুন বিয়ে করেন কিশোর কুমারের প্রাক্তন স্ত্রী যোগিতা বালিকে।
১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই সংসার ভালোই চলছিল, যতক্ষণ না স্ক্রিনে শ্রীদেবীর সঙ্গে তার কেমিস্ট্রি ডালপালা মেলতে শুরু করে।
শোনা যায়, ১৯৮৫ সালে এক মন্দিরে গোপনে শ্রীদেবীকে বিয়ে করেছিলেন মিঠুন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় ইন্ডাস্ট্রিতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মিঠুনের সংসারে।
সে খবর মানতে না পেরে চরম বিষণ্ণতায় ডুবে যান যোগিতা বালি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, শোনা যায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

সে সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যোগিতা বালি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, স্বামীর খুশির জন্য প্রয়োজনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকেও মেনে নিতে রাজি আছেন তিনি।
কিন্তু শ্রীদেবীর চাওয়া ছিল ভিন্ন। শ্রীদেবী বিশ্বাস করেছিলেন যে যোগিতার সঙ্গে মিঠুনের আইনি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন মিঠুন ও যোগিতা এখনো বিবাহিত এবং মিঠুন কোনোভাবেই তার বর্তমান স্ত্রীকে ছেড়ে আসবেন না, তখন তিনি এই জটিল সম্পর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
শ্রীদেবী দূরে সরে যাওয়ার পর মিঠুন আবার ফিরে আসেন নিজের পরিবারের কাছে। যোগিতা বালিও ক্ষমা ও সহনশীলতার মাধ্যমে পুনরায় গুছিয়ে নেন তাদের সংসার।
সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের রেশ আজ আর নেই, কিন্তু বলিউডের ইতিহাসের পাতায় তা আজও এক অমীমাংসিত গল্পের মতো রয়ে গেছে।
এসএন