লিমন-বৃষ্টিকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটির কাছে কী জানতে চেয়েছিলেন হিশাম?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৩ এএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহ হত্যাকাণ্ডের আগে চ্যাটজিপিটির কাছে মরদেহ গোপন করার উপায় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। এমন তথ্যই উঠে এসেছে আদালতে দাখিল করা নথিতে।
২৬ বছর বয়সী হিশামের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত’ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। লিমন ছিলেন অভিযুক্তের রুমমেট এবং তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী।
আদালতের নথিতে যা জানা গেছে
প্রসিকিউটরদের দাবি, গত ১৩ এপ্রিল রাতে, নিহতদের নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘একজন মানুষকে যদি কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলা হয়, তাহলে কী হতে পারে?’
তদন্তে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত
আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল হিশামকে তার বাসা থেকে কার্ডবোর্ডের বাক্স ডাম্পস্টারে ফেলতে দেখেন অন্য এক রুমমেট। পরে ওই ডাম্পস্টার থেকে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি টি-শার্টে পাওয়া ডিএনএ লিমনের সঙ্গে মিলে যায় এবং রান্নাঘরের একটি ম্যাটে পাওয়া নমুনা বৃষ্টির সঙ্গে মিলে বলে জানানো হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের তথ্য
শুক্রবার তদন্তকারীরা হিলসবার্গ কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের সহায়তায় ট্যাম্পা এলাকায় একটি সেতুর পাশে ভারী প্লাস্টিক ব্যাগে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
বৃস্টির ক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত প্রমাণ না মিললেও তদন্তকারীদের ধারণা, তাকেও হত্যা করে মরদেহ গোপন করা হয়েছে। রোববার একটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনার আগে-পরে সন্দেহজনক আচরণ
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন যে তিনি দুই ভিকটিমকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, সেদিন তিনি ট্র্যাশ ব্যাগ, পরিষ্কারক সামগ্রী কিনেছিলেন এবং তার বাসায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া লোকেশন ডেটা অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল তিনি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড এলাকায় যান, যেখানে পরে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়।
এসকে/টিএ