ভোটের সেই নীল কালির দাগ আমাকে খুব আকর্ষণ করত: ঋতুপর্ণা
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৭ পিএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
শৈশবের ভোটের স্মৃতি আর বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই দুই অনুভূতির মেলবন্ধনে নিজের অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এক ব্যক্তিগত লেখায় তিনি ফিরে গেছেন সেই সময়ের কলকাতায়, যেখানে নির্বাচন ছিল শুধু উৎসব নয়, বরং এক গম্ভীর সামাজিক বাস্তবতা।
দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা ঋতুপর্ণা জানান, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ভোটের দিনে পাড়ার চেহারাই বদলে যেত। রাস্তাঘাট হয়ে উঠত নির্জন, চারপাশে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা কাজ করত। ছোটবেলায় এই পরিবর্তন তাকে বিস্মিত করত, আবার একই সঙ্গে আকৃষ্টও করত।

তবে সবচেয়ে বেশি টান ছিল আঙুলে লাগানো নীল কালির দাগ নিয়ে। তার কথায়, ভোট দেওয়ার পর সেই কালি দেখেই মনে হতো মানুষ যেন বড় হয়ে গেছে। ছোটবেলায় বাবা-মা ও আত্মীয়দের ভোট দিতে যেতে দেখে তারও ইচ্ছে হতো দ্রুত বড় হয়ে সেই অভিজ্ঞতার অংশ হতে।
সে সময় সমাজমাধ্যমের প্রভাব না থাকায় খবরের কাগজই ছিল তথ্যের প্রধান উৎস। বাড়িতে প্রতিদিন খবরের কাগজ ঘিরে আলোচনা চলত, রাতের খাবারের টেবিলেও রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতো। পাড়ার পরিবেশেও সেই আলোচনার ছাপ স্পষ্ট ছিল, যা তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেটি ছিল এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত। নিজের আঙুলে নীল কালি দেখে মনে হয়েছিল, তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নিজের মত প্রকাশের অধিকার উপলব্ধি করেছিলেন।
কলেজ জীবনেও বন্ধুদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলত বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সেই সময়ের পার্থক্য অনেক বলে মনে করেন ঋতুপর্ণা। তার মতে, আগে মানুষ অনেক বেশি ভাবনা-চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং নির্বাচনকে গুরুত্ব সহকারে দেখতেন।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে আগ্রহ ও উত্তেজনা আজও তার মধ্যে কাজ করে বলে জানান এই অভিনেত্রী।
পিআর/টিকে