ভিডিও ভাইরালের পর সবাই জানল-ইরানের প্রেসিডেন্ট একজন চিকিৎসক
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৩ পিএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিওটিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে চিকিৎসাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে এবং নাগরিকদের সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা যায়। ভারতের হায়দরাবাদ শহরে অবস্থিত হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রিয় আমেরিকানরা! আপনারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নাম অনলাইন ডাক্তার তালিকায় খুঁজে পাবেন।
হ্যাঁ, আমরা আলাদা।’
পোস্টে আরো বলা হয়, পেজেশকিয়ান একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি হৃদরোগের অস্ত্রোপচারে ৩০ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি অপারেশন থিয়েটারের মতো জায়গায় মেডিক্যাল পোশাক পরে হার্টের অস্ত্রোপচারে সহায়তা করছেন।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত কার্ডিওভাসকুলার সার্জন এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি তাবরিজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যান্য ভিডিওতে তাকে হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাঁটতে এবং রোগী ও তাদের পরিচারকদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায়।
একটি পৃথক অংশে চলমান সংঘাতের মধ্যে তাকে একটি বাজারের মধ্য দিয়ে যেতে, মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা ও সময়কাল স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে এটি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
এক্স-এ একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং ডাক্তার হিসেবে নিজের জনগণের জীবন বাঁচানো, বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার। তার পরেও পশ্চিমা নেতারা আমাদের জ্ঞান দেন। সাবাশ জনাব মাসুদ পেজেশকিয়ান।’
মাসুদ পেজেশকিয়ান একসঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও চিকিৎসক, এই দুই পরিচয় এখন মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিও এই আলোচনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে খুব কঠোরভাবে নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারে এবং হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করতে পারে।
গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও মোজতবা খামেনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। তার পা ও হাতে বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তার মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে। ফলে তার কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে এবং এর জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান (পেশায় একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জড়িত আছেন। নির্ভরযোগ্য বার্তাবাহকদের মাধ্যমে হাতে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। তার সঙ্গে তার পুত্রবধূ, নাতি, কন্যা এবং জামাতাও মারা যান। ইসরায়েলি বিমান হামলার কয়েক মিনিট আগে বাবার বাসা থেকে বেরিয়ে আসায় মোজতবা খামেনি বেঁচে যান।
তথ্য অনুযায়ী, হামলার কিছুক্ষণ আগে মোজতবা খামেনি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বিস্ফোরণের সময়ও তিনি বাইরেই ছিলেন। বিস্ফোরণে মোজতবা খামেনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
টিজে/টিএ