এবার মেটার বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৪ এএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বিপুল মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনে দায়ের করা এই মামলাটি করেছে আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ এবং ‘টেক জাস্টিস ল’। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে প্রদর্শিত প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মেটা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ যার পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। প্রতিদিন ব্যবহারকারীরা প্রায় ১৫ বিলিয়ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে বেশি অর্থ নেওয়া হলেও প্রতারণা সংক্রান্ত ব্যবহারকারীদের ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সারাহ কে উইলি টেক জাস্টিস ল’র অ্যাটর্নি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক বিবৃতিতে বলেন প্রতারণা দমনের কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও ভেতরে ভিন্ন চিত্র রয়েছে। তার দাবি, মেটা সচেতনভাবেই প্রতারকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকার সুযোগ দিয়েছে, যা একটি ব্যবসায়িক মডেলের অংশ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তারা আদালতে এর বিরুদ্ধে লড়বে। মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় তারা নিয়মিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তারা ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিয়েছে, যার ৯২ শতাংশই কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে ও ফেসবুকে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এই মামলাটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন নীতি ও ব্যবহারকারী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : ম্যাশেবল
এসএস/এসএন