নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকাণ্ডে জড়িতের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ
ছবি: সংগৃহীত
১২:১০ পিএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ব্রেন্টন ট্যারান্টের সাজা বাতিলের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের মার্চে ৫১ জনকে হত্যা এবং ৪০ জন উপাসককে হত্যার চেষ্টায় কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা এই অপরাধী।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাজা বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন ব্রেন্টন ট্যারান্ট। সাজা বাতিল চেয়ে করা আবেদনে শুনানিতে এই অপরাধী উল্লেখ করেন,কারাগারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অযৌক্তিক মানসিক অবস্থার ফলে দোষ স্বীকার করেছিলেন।
এক সপ্তাহব্যাপী চলে আপিলের শুনানি শেষে গেল বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের আপিল আদালত ৩৫ বছর বয়সী ট্যারান্টের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত অপরাধীর যুক্তিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
তিন বিচারকের প্যানেল একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বলেছে, ‘ট্যারান্টের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যগুলো বিতর্কের ঊর্ধ্বে।’
তার আপিলে ট্যারান্ট দাবি করেছেন, দুর্বল মানসিক অবস্থায় থাকাকালীন দোষ স্বীকার করেছিলেন।
বিচারকরা তার দাবিগুলোকে অসংগতিপূর্ণ এবং অন্য সাক্ষীদের দ্বারা অসমর্থিত বলে মনে করেছেন। বিচারকরা সেই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, দোষ স্বীকার করার জন্য তাকে ‘কোনোভাবেই জবরদস্তি বা চাপ দেওয়া হয়নি।’
তিনি কোনো তর্ক বা আত্মপক্ষ সমর্থনযোগ্য এমনকি আইনসম্মত যুক্তি দেখাতে পারেননি। তাই আমরা তার এই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছি বলে যোগ করেন আদালত।
আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। যা নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনা হয় দেশজুড়ে। এর পরে নিউজিল্যান্ডে বন্দুক আইন আরও কঠোর করা হয়।
ক্রাইস্টচার্চ হামলায় বড় ভাই হুসেইনকে হারানো আয়া আল-উমারি বলেছেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে ‘আনন্দিত ও স্বস্তিবোধ করছি। আবারো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে দেখে ভালো লাগছে।’
এসকে/এসএন