© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কুষ্টিয়ার ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২১ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চাঞ্চল্যকর ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রাজিব মিস্ত্রিকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ নিয়ে পীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হলো।

র‍্যাব সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২, সিপিসি-১ ও র‍্যাব-৫ সদর কোম্পানির যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রাজিব দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং জামায়াত সমর্থক।

এর আগে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মণ্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেনকে (১৬) গ্রেফতার করা হয়। সে একই গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশের দাবি, পীরের দরবারে হামলার সময়ের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে ওই স্কুলছাত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সে এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নয়। তাকে ইতোমধ্যে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে স্কুলছাত্রের বাবা তছিকুল ইসলামের দাবি, ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, তার ছেলেও গিয়েছিল। এ ঘটনার সাথে তার ছেলে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে রাতে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায় শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় রাজিবসহ হামলাকারীরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর দোতলা থেকে তাকে নিচে ছুড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।

এ ঘটনার পর গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদকে (৩৬) প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক সিহাবকে (৪৫) এজাহারভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন