তেহরান বিমানবন্দরে পুনরায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৬ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবার বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে আকাশপথে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও স্থল পরিস্থিতিতে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
শুক্রবার (১ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ৫৮ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এই বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বহু যাত্রী বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েন, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয় এবং অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২৫ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে আটটি দেশীয় বিমান সংস্থা প্রায় ১৫টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে মদিনা, ইস্তাম্বুল, মাসকাট, চীন ও রাশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক গন্তব্যও রয়েছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা অনেক কম।
এক যাত্রী জানান, দীর্ঘ সময়ের চাপ ও সমস্যার পর তিনি অবশেষে কানাডার টিকিট পেয়েছেন। তাকে প্রথমে আর্মেনিয়া হয়ে দীর্ঘ ট্রানজিটের মাধ্যমে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান রামিন কাশেফ আজার বলেছেন, বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর আবার ইরানে ফিরে আসা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে প্রায় ২০টি বিমান অচল হয়ে পড়েছে। তবে বিমানবন্দরের অবকাঠামো প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের সময় তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর-সহ কয়েকটি বিমানবন্দরে হামলা হয়। পাশাপাশি তাবরিজ, আহভাজ, মাশহাদ, খোই ও উরমিয়া বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু বিমান চলাচলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পর্যটন, হোটেল ও ট্রাভেল ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়েছে। অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন এবং বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরগুলো ধীরে ধীরে চালু হলেও পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়। যাত্রী চলাচল শুরু হওয়া স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
এবি/টিএ