© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাহুল-নিসাঙ্কার ব্যাটে রেকর্ড গড়ে রাজস্থানকে ৭ উইকেটে হারাল দিল্লি

শেয়ার করুন:
রাহুল-নিসাঙ্কার ব্যাটে রেকর্ড গড়ে রাজস্থানকে ৭ উইকেটে হারাল দিল্লি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৮ এএম | ০২ মে, ২০২৬
দিল্লি ক্যাপিটালসের পারফরম্যান্স যেন একেবারেই অপ্রত্যাশিত রোলারকোস্টার। কখনও তারা আকাশছোঁয়া রান করেও ম্যাচ হারছে, আবার কখনও সহজ মনে হওয়া ম্যাচেই ভেঙে পড়ছে ব্যাটিং লাইনআপ। যেমন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২৬৪ রান করেও জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। এরপরই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে লজ্জার পরাজয় বরণ করতে হয় অক্ষর প্যাটেলের দলকে।

তবে ঠিক সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে দেখা গেল দিল্লির অন্য রূপ। ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নেয় তারা। ৪০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জয়ের নায়ক বনে যান লোকেশ রাহুল। অন্যদিকে রাজস্থানের হয়ে রিয়ান পরাগের ঝলমলে ৯০ রানের ইনিংসও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের স্বাদ এনে দিতে পারেনি। এই জয়ের মাধ্যমে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয় পাওয়ার নতুন রেকর্ডও গড়ে দিল্লি ক্যাপিটালস।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) জয়পুরে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৫ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। দলের হয়ে রিয়ান পরাগ ৫০ বলে ৯০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। এছাড়া ডোনোভান ফেরেরা মাত্র ১৪ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ব্যাটিং করেন।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে দিল্লি। ৪০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন কেএল রাহুল। পাথুম নিসাঙ্কা করেন ৩৩ বলে ৬২ রান।

অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন সাজঘরে ধূমপান করার ঘটনায় পরাগকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় তাকে জরিমানাও করা হয়, তবে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। তবে এসব বিতর্কে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করে ব্যাট হাতেই জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন, এবং দিল্লির বিপক্ষে সেই পারফরম্যান্সেই নিজের সক্ষমতার প্রমাণ রাখেন।

এ ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশী বনাম মিচেল স্টার্কের সম্ভাব্য লড়াই নিয়েই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে বাস্তবে সেই মুখোমুখি লড়াই দেখা যায়নি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্ট্রাইকে ছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। স্টার্কের প্রথম বলেই তিনি ছক্কা হাঁকালেও তৃতীয় বলেই ফেরেন সাজঘরে।

এরপর ধ্রুব জুরেল বাকি তিন বল মোকাবিলা করেন, ফলে বৈভবের স্টার্কের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সুযোগই হয়নি।



পরের ওভারে অবশ্য ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান বৈভব। কাইল জেমিসনের করা প্রথম বলেই চার মেরে বসেন তিনি। কিন্তু পরের বলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। জেমিসনের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান বৈভব। মাত্র ৪ রানেই থামে বৈভবের ইনিংস।

স্কোরবোর্ডে ১২ রান জমা হতেই সাজঘরে ফেরেন রাজস্থানের দুই ওপেনার। এরপর দলের হাল ধরেন রিয়ান পরাগ ও ধ্রুব জুরেল। দু’জনে মিলে পরিস্থিতি সামলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন।

মাত্র ৩২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন পরাগ, যা চলতি আইপিএলে তার প্রথম ফিফটি। দু’জনে মিলে ৫৯ বলে ১০২ রানের জুটি গড়েন। ৩০ বলে ৪২ রান করা জুরেলকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে নতুন করে জুটি বাঁধেন পরাগ।

দিল্লিকে ম্যাচে ফেরানোর কাজটি করেন মিচেল স্টার্ক। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এসেই তিনি রাজস্থানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান, একই ওভারে রিয়ান পরাগ ও রবীন্দ্র জাদেজাকে প্যাভিলিয়নে পাঠান তিনি। স্টার্কের এক ডেলিভারির গতি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পরাগ।ফেরার আগে খেলেন ৫০ বলে ৯০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। জাদেজা করেন ১৪ বলে ২০ রান।

পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে রাজস্থান। সেই পরিস্থিতিতেই আবার সামনে আসেন ডোনোভান ফেরেরা। আগের ম্যাচে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর এই ম্যাচেও তিনি শেষদিকে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন। মাত্র ১৪ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি ছয়টি ছক্কা হাঁকান।

ফেরেরার এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজস্থান। অন্যদিকে, দিল্লির হয়ে ৪ ওভারে ৪০ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন মিচেল স্টার্ক।

২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও রাহুল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকেন দুজনে। পাওয়ার প্লেতে ৭০ রান জমা করেন এই দুই ব্যাটার।

ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগেও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে নিসাঙ্কা খেলবেন। আগের ম্যাচের ওপেনার সাহিল পরখ চোট পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে দলে সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগই দারুণভাবে কাজে লাগান নিসাঙ্কা, রাহুলের সঙ্গে ৯.৩ ওভারে ১১০ রানের বড় জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই জুটি ভাঙেন রবীন্দ্র জাদেজা। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৬২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন নিসাঙ্কা।

তিন নম্বরে নেমে নীতীশ রানাও দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে রাহুল তার স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রাহুল।

নীতীশ অবশ্য বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ১৭ বলে ৩৩ রান করে তুষার দেশপাণ্ডের বলে আউট হন তিনি। এরপর দিল্লির ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন আর্চার, দ্বিতীয় স্পেলে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। রাহুল তার বলে বড় শট খেলার চেষ্টা করলেও ব্যাট ঘুরে যাওয়ায় ঠিকভাবে টাইম করতে পারেননি, ফলে বল উঠে যায় আকাশে এবং সহজ ক্যাচ নেন ডোনোভান ফেরেরা। ৪০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন রাহুল।

শেষদিকে দিল্লির জয়ের জন্য ২৪ বলে দরকার ছিল ৪২ রান। ক্রিজে ছিলেন ত্রিস্তান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মা- দুজনে আগেও দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। ডেভিড মিলার না থাকায় দায়িত্বটা তাদের কাঁধেই ছিল। চাপের মধ্যেও শান্ত থেকে ব্যাটিং করেন এই জুটি। শেষ পর্যন্ত কোনো নাটক না ঘটিয়ে দলকে জয় এনে দেন তারা। স্টাবস ১১ বলে ১৮ এবং আশুতোষ ১৫ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন