ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে নাচের ভুবনে সরোজ খান
ছবি: সংগৃহীত
১১:০৩ এএম | ০২ মে, ২০২৬
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ‘এক দো তিন’ বা ‘দোলা রে দোলা’-র মতো কালজয়ী নাচের কারিগর সরোজ খান। ২০২০ সালের ৩ জুলাই তিনি পরলোকগমন করলেও তার রেখে যাওয়া কাজ আজও অমলিন। তবে রুপালি পর্দার এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক কঠিন ও সংগ্রামের গল্প।
সরোজ খানের শৈশব আর পাঁচটা শিশুর মতো সহজ ছিল না।

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে মাত্র ৩ বছর বয়সেই পা রাখেন সিনেমার জগতে। তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার, কিন্তু অভাবের তাড়নায় তাকে বেছে নিতে হয় দলীয় নৃত্যশিল্পীর কাজ। তিনি নিজেই একবার বলেছিলেন, সংসার চালাতে আমাকে নাচতে হতো, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা ঈশ্বর অন্যভাবে লিখেছিলেন।
১৩ বছর বয়সে সরোজ খানের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে।
সেটে কাজ করার সময় নৃত্য পরিচালক সোহানলালের নজরে পড়েন তিনি। সোহানলাল অবাক হয়ে দেখেন, সরোজ কেবল নিজের নাচই নয়, বরং বিখ্যাত অভিনেত্রী হেলেনের নাচের স্টেপগুলোও হুবহু রপ্ত করে নিয়েছেন। তার এই প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়ে সোহানলাল তাকে নিজের সহকারী হিসেবে কাজে নেন।
কর্মজীবনের উন্নতির মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন সরোজ খান।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি তার চেয়ে ৩০ বছরের বড় সোহানলালকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি জানতেন না যে সোহানলাল আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার চারটি সন্তান রয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে গর্ভবতী হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন তার এই বিয়েটি ছিল অবৈধ এবং তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
এত চড়াই-উতরাই আর ব্যক্তিগত শোক পার করেও সরোজ খান হাল ছাড়েননি। শূন্য থেকে শুরু করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের ‘মাস্টার জি’।
পর্দার পেছনে থেকে তার শেখানো নাচে সমৃদ্ধ হয়েছে ভারতীয় সিনেমা, আর তার জীবন হয়ে উঠেছে হার না মানা সংগ্রামের এক অনন্য দলিল।
সূত্র : এনডিটিভি
পিআর/এসএন