‘ট্রাম্প একজন নির্বোধ’-তেলের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ আমেরিকানরা
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৬ এএম | ০২ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার জেরে জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনে। পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গ্যাস স্টেশনে নিজের পিকআপ ট্রাকে তেল ভরতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী রাইডার থমাস দেখলেন, পুরো ট্যাংক ভরতে খরচ পড়েছে ১৩০ ডলার—যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৩০ ডলার বেশি।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘দামের জন্য মেজাজ হারাচ্ছি, কিন্তু যে কারণে এত বেশি হলো, সেটা আমাকে আরো বেশি ক্ষুব্ধ করছে।’
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তখন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় সরবরাহে সংকটে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ৬ ডলারেরও বেশি হয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৫০ ডলার।
ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।
রাইডার থমাস বলেন, ‘এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটা ইরাক যুদ্ধের মতোই, যেখানে কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প একজন নির্বোধ—এটাই সত্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি, মধ্যপন্থী ভোটাররা, যারা ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করবেন। আমেরিকানদের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প, আর এখন তিনি ভোটারদের সঙ্গে কী করেছেন।’
মিনিভ্যানে জ্বালানি ভরার জন্য লাইনে দাঁড়ানো ট্রাম্পের সমর্থক ডেভিড শাভেজও জানান, ‘এটা ভালো নয়; আমরা গ্যাসের জন্য বেশি দাম দিতে চাই না।’
তবে একা ট্রাম্পকে দোষ দিতে নারাজ ডেভিড বলেন, ‘তবে, বন্ধ দরজার আড়ালে কী ঘটে, তার সব কিছু আমরা জানি না। সব সমস্যার জন্য একজনকে দোষারোপ করা খুব সহজ।’
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প জোর দিয়ে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দেশটির ওপর হামলা চালানো জরুরি ছিল এবং তিনি বারবার একটি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য শক্তি সত্ত্বেও, ইসলামী প্রজাতন্ত্রটি হরমুজ প্রণালি অবরোধ করেছে, যা বিশ্বের তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ।
টিজে/টিএ