এআই প্রযুক্তি বাড়াচ্ছে সাইবার ঝুঁকি, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সতর্কতার পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৯ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নতুন করে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা এখন সাধারণ পদ্ধতির বদলে উন্নত এআই টুল ব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করছে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। অনেক সময় পরিচিত কারও কণ্ঠ বা ছবি নকল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া হ্যাকাররা এখন এমন ফিশিং ইমেইল ও মেসেজ তৈরি করছে, যা দেখতে একেবারে আসল মনে হয়। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আসল ও ভুয়া বার্তার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এআই-চালিত ম্যালওয়্যার আগের তুলনায় আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এসব ম্যালওয়্যার দ্রুত নিজেদের ধরন পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক সময় কার্যকর হচ্ছে না।
বাংলাদেশেও এ ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিজিডি ই-গভ সার্ট জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেস বর্তমানে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ‘ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ২০২৬’ কার্যকর করেছে। এই আইনে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যকে তার নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬’ এর আওতায় সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন-
সব অনলাইন অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন
সন্দেহজনক লিংক বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকুন
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসকে/টিএ