বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফার সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৮ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র মাসখানেকের একটু বেশি সময়। তবে ফুটবলের বৈশ্বিক এই আসরে ইরান অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে খুব শিগগিরই ফিফার সঙ্গে বসতে যাচ্ছে ইরান ফুটবলের কর্তারা।
ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছেই না। এবার সেই ধোঁয়াশা কাটাতে ফিফার সদর দপ্তরে ডাকা হয়েছে ইরান ফুটবলের কর্তাদের। জুরিখে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক, এমনটাই জানিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ। গত শুক্রবার (১ মে) কানাডা থেকে ফিরে ইরানি গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘আলোচনা করার মতো অনেক বিষয় আছে আমাদের।’ আগামী ২০ মের মধ্যে ইরানি প্রতিনিধি দলকে জুরিখে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম।

জুনের প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ইরান ফুটবল দলের। অ্যারিজোনার টুসন শহরে বেস ক্যাম্প স্থাপন করে সেখানে অনুশীলন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আসরের ‘জি’ গ্রুপে জায়গা পাওয়া ইরান নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
একই ভেন্যুতে ২১ জুন তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। এরপর ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তাহলে ৩ জুলাই ডালাস কাউবয়েজের মাঠে সম্ভাব্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দেখা যেতে পারে ইরানকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় কানাডায়। সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত ছিল ইরান।
সেই কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জানান, নির্ধারিত সূচি মেনেই বিশ্বকাপে খেলবে ইরান। পরে হোয়াইট হাউস থেকেও একই সুর শোনা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনফান্তিনোর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘জিয়ান্নি যখন বলেছে, তখন আমার কোনো আপত্তি নেই।’
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে যোগ দিতেই কানাডায় গিয়েছিলেন তাজ ও তার দুই সহকর্মী। তবে ইস্তাম্বুল থেকে টরন্টো হয়ে ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার পথে টরন্টো বিমানবন্দরেই জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাকে। এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়।
খবরে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি ‘ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর সদস্য কি না। এর জবাবে তাজ মন্তব্য করেন, ‘ইরানে আমরা ৯ কোটি মানুষই আইআরজিসির সদস্য।’
শেষ পর্যন্ত নাকি তাকে বলা হয়েছে, তিনি কানাডায় ঢুকতে পারেন। কিন্তু তাজ ও তার সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন ফিরে যাওয়ার। তাজ পরে বলেছেন, ‘তারা বলেছিল- আপনাদের ইচ্ছা। তখন আমরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলাম ইস্তাম্বুলে ফিরে যাব। আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বের করে দেওয়া হয়নি, ফাইলে কোনো ডিপোর্টেশনের উল্লেখ নেই। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা প্রায় তা-ই।’
উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাজ ও তার সহকর্মীদের আমেরিকার ভিসা দেওয়া হয়নি। সেই ড্রর মঞ্চে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন। তবে এবার কানাডার বৈধ ভিসা ছিল তাজের পাসপোর্টে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ স্থগিত রয়েছে, আর বিশ্বকাপের আগে সেটি পুনরায় শুরুর সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মার্চে তুরস্কের আন্তালিয়ায় ক্যাম্প করে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল দলটি। একই জায়গায় চলতি মাসেও আবার ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। তার আগে জুরিখে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক থেকে কতটা সমাধান আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরআই/টিএ