© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শেয়ার করুন:
পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৬ এএম | ০৩ মে, ২০২৬
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।
পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শনিবার (২ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন বাজেট সামনে রেখে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারের নজরে কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে নেয়ার জন্য গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ মে মাসকে গুরুত্ব দিয়ে ৮ মে পটুয়াখালী, ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা হবে।

এছাড়া ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল হওয়ার কথা থাকলেও একটিও পাননি তারা। আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা। বেশিরভাগ কর্মচারী ঋণের দায়ে জর্জরিত।

ঋণ কর্তন করে মাস শেষে যে বেতন হাতে পান, তাতে ১০-১৫ দিন চলতে পারেন না। পরবর্তীতে তারা আরও বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রেখে পে স্কেল বাস্তবায়ন না করলে সরকারের প্রতি কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে, যা কাম্য নয়।
আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রেখে সরকার ২২ লাখ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন বলে প্রত্যাশা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সুপারিশ দিয়েছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ে পুনর্গঠিত কমিটি। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। আর আগামী ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হতে পারে।
গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন–সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। সম্প্রতি এ কমিটি তাদের মতামত জানিয়েছে।

কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন জুলাই থেকে প্রথম ধাপের সুপারিশ অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সচিব কমিটির সুপারিশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এজন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর চিকিৎসা ভাতা থেকে শুরু করে অন্যান্য অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। তবে এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে সর্বশেষ ৮ম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নবম পে-স্কেলের সুপারিশ প্রণয়নে পে-কমিশন গঠন করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে পে-কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা ও বাড়িভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট বেতন-ভাতা হয় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বেতনস্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের উল্লিখিত কর্মচারীর মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। ভাতা মিলে সর্বমোট বেতন-ভাতা হবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন