ইরানের পথে হেঁটে নিজেরাই বিধ্বংসী ড্রোন বানাচ্ছে হিজবুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২০ এএম | ০৩ মে, ২০২৬
সম্প্রতি হিজবুল্লাহর প্রকাশিত নতুন কিছু ভিডিওতে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরির সক্ষমতা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি 'হার্মিস ৪৫০' ইউএভি ভূপাতিত করার দৃশ্য সামনে এসেছে। 'প্রাউডলি মেইড ইন লেবানন' শীর্ষক এই ভিডিওটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন ইসরায়েল দাবি করছে যে তারা হিজবুল্লাহর শক্তি অনেকাংশে খর্ব করেছে।
তবে এই ভিডিওর মাধ্যমে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা গোপন ঘাঁটিতে অত্যন্ত উন্নত মানের যন্ত্রপাতি, সোল্ডারিং আয়রন এবং ওয়েল্ডিং মেশিনের সাহায্যে ড্রোন তৈরি করছেন। সেই গোপন কারখানায় হিজবুল্লাহর শহীদ নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ এবং সাইয়্যেদ হাশেম সাফিয়েদ্দিনের ছবিও টাঙানো ছিল।
ভিডিওতে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের একটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের বিভিন্ন অংশ সংযোজন করতে দেখা যায়। ড্রোনটি তৈরির পর সেটিকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক একই ধরনের ড্রোন মজুত রাখা আছে।
বর্তমান যুদ্ধে এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এগুলো শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে এবং এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভিডিওর শেষে লেবাননের জাতীয় সংগীতের সাথে ‘প্রাউডলি মেইড ইন লেবানন’ বার্তাটি প্রদর্শিত হয়।
হিজবুল্লাহ মূলত ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর থেকেই তাদের অস্ত্রশস্ত্র, বিশেষ করে রকেট, ড্রোন এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। প্রয়াত নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তার বিভিন্ন বক্তৃতায় বারবার উল্লেখ করেছিলেন যে, হিজবুল্লাহ কেবল একটি প্রতিরোধ বাহিনী নয় বরং লেবাননের মাটিতে তাদের নিজস্ব এবং স্বাধীন সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। তিনি বলেছিলেন যে, যেকোনো ধরনের অবরোধের মধ্যেও হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন এবং উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
উৎপাদন সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে একটি ইসরায়েলি 'হার্মিস ৪৫০' ড্রোন ভূপাতিত করার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, ড্রোনটিকে প্রথমে শনাক্ত করা হয় এবং এরপর একটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ড্রোনটি ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।
সূত্র: আল মায়াদিন
এমআর/টিএ