© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে: চসিক মেয়র

শেয়ার করুন:
জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে: চসিক মেয়র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২০ পিএম | ০৩ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য নগরবাসীকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’

রোববার (৩ মে) নগরের ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ২৬ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে চলমান নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

নালা-নর্দমায় বর্জ্য ফেলার কুফল তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত নালা পরিষ্কার করে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিষ্কার করার পরপরই যদি আবার সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা হয়, তবে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।’ তিনি নগরবাসীকে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানান।

পরিদর্শনকালে মেয়র সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদসহ কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, গুলজার খাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট নির্মাণকাজের জন্য একটি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এই বাঁধের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়াসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

মেয়র আরও বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে স্লুইস গেট নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্লুইস গেট নির্মাণ শেষ হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
মেয়র জানান, নগরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছি। বর্তমানে চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে।’

এ সময় মেয়র স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা আমাদের সবার সামাজিক দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ ও নালা পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এই অভ্যাস ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু হয়ে একসময় গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। তখনই চট্টগ্রামসহ দেশের শহরগুলো আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।’

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন