তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতিকে ‘ইঁদুর’ বলল চীন, বেইজিংকে ‘ঝগড়াটে মাছ ব্যবসায়ী’ বলে পাল্টা খোঁচা তাইপের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩২ পিএম | ০৩ মে, ২০২৬
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এসোয়াতিনির রাজাকে বলেন, তাইওয়ানের বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কোনো দেশই তা আটকাতে পারবে না। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই সফর প্রতিহত করার চেষ্টার অভিযোগের মধ্যেই লাই এই আকস্মিক সফরে সেখানে পৌঁছান। এদিকে, চীন তাকে 'ইঁদুর' অভিহিত করে তার সফরের নিন্দা করেছে।
চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে মনে করে এবং তাদের মতে অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক বজায় রাখার কোনো অধিকার নেই—তাইওয়ান সরকার অবশ্য এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করে। বেইজিং দাবি করে আসছে, অন্য দেশগুলো যেন এই দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখে।
গত মাসে তাইওয়ান জানিয়েছিল, চীন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশকে চাপ দিয়ে লাইয়ের বিমানের ওভারফ্লাইট অনুমতি বাতিল করায়, যাতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ছোট রাজ্য এসোয়াতিনিতে যেতে না পারেন। সেখানে তিনি রাজা তৃতীয় এমস্বাতির সিংহাসনে আরোহণের ৪০তম বার্ষিকীতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে মাত্র ১২টি দেশ তাইপেইয়ের (তাইপেই) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
রোববার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের দেওয়া মন্তব্যে রাজাকে এ কথা বলেন লাই, "রিপাবলিক অফ চায়না, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এই তাইওয়ান বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ"। তিনি এখানে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম ব্যবহার করেন।
তিনি আরও বলেন, "তাইওয়ানের দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কোনো দেশেরই অধিকার নেই—বা কোনো দেশের চেষ্টাও করা উচিত নয়—তাইওয়ানকে বিশ্বে অবদান রাখা থেকে বিরত রাখার"।
প্রায় ১৩ লাখ মানুষের দেশ এসোয়াতিনিতে (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) লাই গত শনিবার পৌঁছান। কোনো সরকারই এই সফরের কথা আগে থেকে ঘোষণা করেনি এবং তিনি এসোয়াতিনি সরকারের একটি বিমানে করে সেখানে যান।
"আগে পৌঁছানো এবং পরে ঘোষণা করা"—এই মডেলটি সাধারণত উচ্চ-পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যবহৃত হয় যাতে "বহিরাগত শক্তির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের অনিশ্চিত ঝুঁকি" হ্রাস করা যায়। স্পর্শকাতর বিষয়ের কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাইওয়ানের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।
শনিবার গভীর রাতে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় বলেছে, লাই 'চুপিসারে' এসোয়াতিনিতে পৌঁছেছেন।
এক বিবৃতিতে একজন মুখপাত্র বলেন, 'লাই চিং-তের এমন ঘৃণ্য আচরণ—রাস্তা দিয়ে দ্রুত দৌড়ে যাওয়া ইঁদুরের মতো। তিনি এমন আচরণের জন্য অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপহাসের পাত্র হবেন।'
তাইওয়ানের চীন-নীতিনির্ধারণী সংস্থা 'মেনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল' বলেছে যে, কোথাও যাওয়ার জন্য লাই-এর বেইজিংয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
সংস্থাটি আরও বলেছে, "তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মাছ বাজারের ঝগড়াটে নারীবিক্রেতার মতো এমন নিচু স্তরের কথাবার্তা অত্যন্ত বিরক্তিকর"।
গত মাসে ওভারফ্লাইট সমস্যার কারণে লাইয়ের সফর বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের সমালোচনা করেছিল। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
ইউটি/টিএ