© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চৌদ্দগ্রামে দুই হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন:
চৌদ্দগ্রামে দুই হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল জার্নালিস্ট, কুমিল্লা
০৭:১২ পিএম | ০৩ মে, ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রতিবাদ করায় রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ বশির হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও একই এলাকার কলেজ ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত হত্যার বিচারের দাবিও জানানো হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ হয়। এতে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার বৈদ্দ্যেরখিল, গোমারবাড়িসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক যুবক-তরুণ অংশগ্রহণ করেন। 

দেখা যায়, চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাই স্কুল মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করেন। এ সময় পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা থানা ঘেরাও ছেড়ে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এসে মিছিল নিয়ে চৌদ্দগ্রাম বাজারে এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোশাররফ হোসেন, সাইদুল হোসেন সাব্বির, সাজিন ও বেলাল। এ সময় বক্তারা বলেন , বশির ও রাহাতের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তারা পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। হত্যাকারীরা ভারত থেকে অস্ত্র এনে গুলি চালিয়ে রাহাত ও বশিরকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়? যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল রাতে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বারেক মিয়ার ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদির এর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদ এর দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে এসে নাদির এর পক্ষের লোকজনের উপর হামলা করে। হামলায় বশির গুরুতর আহত হয়। পরে আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার দিবাগত রাতে বশির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

রাহাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার গোমারবাড়ি ও বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাতকে ২০২৩ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে একা পেয়ে গুলি করে বৈদ্দ্যেরখিলের অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। রাহাত দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রাহাত গোমারবাড়ি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের মামালা নিয়ে পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। অবরোধ চলাকালে স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে। অবরোধকারীদের শান্ত করতে বক্তব্য দেন, চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন। ওসি বলেন, কোন নেতা বা কারো আত্মীয় পরিচয়ে খুনীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মামালা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন