© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণউপসাগরীয় অঞ্চলকে স্তব্ধ করে দেওয়া ২০২৬

শেয়ার করুন:
উপসাগরীয় অঞ্চলকে স্তব্ধ করে দেওয়া ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৫ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ছেড়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। অপরদিকে সৌদি আরব বিদেশে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে তাদের জাঁকজমক বিনিয়োগের অবসান করতে যাচ্ছে। ইরানের হামলার মধ্যেই আমেরিকার এ দুই মিত্রের মধ্যে নোংরাভাবে বিচ্ছেদ ঘটছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সফরের এক বছর পর পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে তেল-পরবর্তী অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে পর্যটন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আমেরিকার পুঁজি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

তবে উপসাগরীয় তিন দেশ সফরে ট্রাম্প যে ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসার প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। আমেরিকার ‘সোনালি যুগ’ ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখনই তা আসছে না।

ট্রাম্পের সফরের মধ্য দিয়ে হয়ত ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, এআই, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ হতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল। তবে অ্যাক্সিওসকে কনস্টেলেশন এনার্জির সিইও জো ডমনিগুয়েজ বলেন, ইরানের হামলার ফলে এখন কেউই সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেবে না। দুবাই মডেলে স্থিতিশীলতা ও বিলাসবহুলতার প্রচার করে উপসাগরীয় নেতারা এক প্রজন্ম পার করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এ দেশগুলোতে পর্যটক, বিদেশি দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন তারা। ইরানের হামলার জেরে স্থিতিশীলতার সে মডেলের ওপর আস্থায় চিড় ধরেছে।

ইরানের হামলার জেরে তেল রপ্তানি কমে যাওয়ায় বিদেশে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগ থেকে সরে আসছে সৌদি আরব। কদিন আগেই গলফের মর্যাদাপূর্ণ আসর লিভ গলফে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে রিয়াদ। ২০২২ সাল থেকে এ আসরের পেছনে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব।

এছাড়া দেশের ভেতরেও বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনের আসরে অর্থ খরচে চাপে পড়ে গেছে রিয়াদ। উচ্চাভিলাসী নিওম সিটি প্রকল্প নির্মাণেও হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এর মধ্যে ২০৩৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে ইচ্ছামাফিক তেল উত্তোলনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জেদ্দায় উপসাগরীয় নেতাদের নিয়ে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সম্মেলন আহ্বানের দিনই আমিরাতের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো। ইয়েমেন, সুদান ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিরোধের জেরেই সৌদি নিয়ন্ত্রিত তেল সংগঠন থেকে বেরিয়ে গেছে আমিরাত। ইরান যুদ্ধ দুদেশের মধ্যে বিরোধকে আরো গভীর করেছে।

যদিও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বিন জায়েদ যুদ্ধ শুরুর পক্ষে ছিলেন না; তবে যুদ্ধ শুরুর পর তা আরো জোরালো করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে ইরান সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়। অপরদিকে তেলক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জেরে সৌদি সরকার যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস রপ্তানিতে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার। এছাড়া দেশটি দীর্ঘদিন আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রেখেছিল, তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুরোপুরি আবরাহাম অ্যাকোর্ডের চিন্তাধারা ও ইসরাইলের সঙ্গে অংশীদারত্বের দিকে বেশি ঝুঁকছে। ইসরাইল আমিরাতের কাছে বিভিন্ন সমরাস্ত্র সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। অপরদিকে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করছে। ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের যে সম্পর্কের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তার প্রতি শীতল দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে এ বিরোধে সংযুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, রিয়াদ বা আবুধাবির মধ্যে কোনো পক্ষকেই ওয়াশিংটন বেছে নিতে পারে না।

উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো যথেষ্ট খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ইরানে সংঘাত উপসাগরীয় অর্থনীতির জন্য সাময়িক সংকট। এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে ইরানে আগ্রাসনের মাধ্যমে ট্রাম্প যে ক্ষতের সৃষ্টি করলেন, তা পূরণ করতে তার মেয়াদকাল শেষ হয়ে যেতে পারে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন