জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হচ্ছে না, সামনে আসছে না সাক্ষ্য-প্রমাণ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২০ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিকভাবে হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু দেখছি যে তদন্তকাজ শেষ হচ্ছে না, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সামনে আসছে না। এটা কি সেই জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রহসন নয়? তাদের কথা বলে অনেকজনকে আটকে রাখা হচ্ছে, অনেকটা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।’
রবিবার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাক্ষ্য–প্রমাণ আজ অবধি দেখানো যায়নি...।’
সারা হোসেন বলেন, ‘মানবাধিকার হচ্ছে সর্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজনীয়। মানবাধিকার শুধু বাকস্বাধীনতা নয়, জীবনের অধিকার, গুম ও নির্যাতন থেকে মুক্ত হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও স্বীকৃত।
প্রতিটি অধিকার সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা।’
তিনি বলেন, ‘তখন আটক ব্যক্তিদের অনেক দিন পর আদালতের সামনে আনা হতো। শেষ পর্যন্ত তারা জামিন পেতেন। তবে সেখান থেকে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাত্রার শুরু হতো, তার শেষ ছিল না।
কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কী পরিস্থিতি দেখছি? জামিন তো শুরু হয় না, জামিনই তো পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে, যারা আপনাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের, তাঁদের তো জামিন হয় না। এর সঙ্গে কি আপনারা একমত হবেন?’
সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে সারা হোসেন বলেন, ‘তারা নিয়মিত আদালতে আসেন, প্র্যাকটিস করেন। তাদের কারও বিরুদ্ধে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই।
তাদের সবচেয়ে বড় অন্যায় হতে পারে, সে সময় হয়তো কেউ আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সদস্য ছিলেন। এখন তারা তো আওয়ামী লীগ হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন না, দাঁড়াচ্ছেন আইনজীবী হিসেবে। তারা দাঁড়াতে পারছেন না।’
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের সঞ্চালনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, জাইমা ইসলাম, এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং ফ্যাক্ট চেকার ও মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ আমান বক্তব্য দেন।
টিজে/এসএন