© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধে যানবাহন ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

শেয়ার করুন:
বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধে যানবাহন ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫১ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
টানা পাঁচ দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটজুড়ে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চালক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হলেও অচলাবস্থা কাটেনি।

সোমবার ফেরি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কোনো নির্দিষ্ট সিরিয়াল নেই। কে আগে পারাপার হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এ নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে প্রতিদিনই ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক নয়ন শীল দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গত রবিবার ও সোমবার থেকে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘাট এলাকায় বিপুলসংখ্যক গাড়ি আটকা পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের জন্য ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে।

ঘাটে অবস্থানরত চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কার্যকর কোনো সিরিয়াল ব্যবস্থা না থাকায় আগে আসা গাড়িও পরে পার হতে পারছে। এতে সময় ও অর্থ, দুই দিকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন পণ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত ফেরি চালু, সিরিয়ালভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং সমন্বিত তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় এ দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

আবহাওয়া অনুকূলে না এলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে এ সংকট থেকে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন