অ্যাতলেটিকোর ১০ নাকি আর্সেনালের ২০ বছর, কার অপেক্ষার অবসান আজ?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫২ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
অপেক্ষাটা দুই দলের জন্যই অনেক দীর্ঘ একটা সময়। অ্যাতলেটিকোর ১০ বছর আর আর্সেনালের ২০ বছরের অপেক্ষা। এ পর্যন্ত তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে তিনবারই রানার্সআপ হয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, সর্বশেষ ফাইনাল খেলেছে ২০১৬ সালে। অন্যদিকে আর্সেনালের একমাত্র ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে। সে ম্যাচে বার্সেলোনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল গানাররা।
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ (৫ মে) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপ সেরার স্বপ্নে বিভোর দুই দল। মাদ্রিদে প্রথম লেগের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
ইতিহাসের দিক থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে আর্সেনাল। মুখোমুখি পরিসংখ্যান ১-১ সমতায় থাকলেও এমিরেটসে দুই দলের সর্বশেষ দেখাই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে মিকেল আর্তেতার দলকে। চলতি মৌসুমের লিগ পর্বে নিজেদের মাঠে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল গানাররা।
উত্তর লন্ডনের চেনা কঠিন পরিবেশে এবার দিয়েগো সিমিওনের সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ— বিশেষ করে হুলিয়ান আলভারেজকে ধরে রাখা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকার মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়তে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় আছে আর্সেনালের পাশাপাশি বার্সেলোনাও।
এমন এক তারকাকে দলে রাখতে সবচেয়ে বড় প্রেরণা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন। ইউরোপের সেরা হওয়ার স্বাদ যদি প্রথমবার পায় অ্যাতলেটিকো, তাহলে সিমিওনে হয়তো আলভারেজকে বোঝাতে পারবেন— এই দলটিও বড় কিছু করার সামর্থ্য রাখে।
সেই স্বপ্নপূরণে অ্যাতলেটিকো আবার তাকিয়ে আলভারেজের দিকেই। আলভারেজ নিজে অবশ্য দাবি করছেন, দলবদল নিয়ে এখনই খুব বেশি ভাবছেন না। সেমিফাইনালের প্রথম লেগের আগে এই আর্জেন্টাইন বলেছিলেন, ‘এসব নিয়ে ভেবে শক্তি ক্ষয় করে কোনো লাভ নেই। আমার সামনে যে কাজ, সে কাজেই মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
নিখুঁত পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর মাধ্যমে নিজের স্থিরতা ও মনোযোগের দারুণ প্রমাণ দিয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ, তাও আবার ঘরের মাঠেই। পাশাপাশি তিনি গড়েছেন নতুন রেকর্ড— অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে ১০ গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
আজকের ম্যাচের আগে আর্সেনাল শিবিরে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছেন বুকাইয়ো সাকা। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই উইঙ্গার, যা স্পষ্ট হয়েছে ফুলহ্যামের বিপক্ষে দলের সর্বশেষ জয়ে। সেই ম্যাচে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ ইয়োকেরেশকে দিয়েও একটি গোল করান তিনি।
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জন্য সাকা, ইয়োকেরেশ কিংবা ডেক্লান রাইসদের আটকে রাখা যতটা কঠিন, তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে আর্সেনালের শক্তপোক্ত রক্ষণভাগ ভেদ করা। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল হজম করেছে তারা।
এবি/টিএ