আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শর্ত দিল ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫২ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান। তবে শর্ত হলো- ওয়াশিংটনকে তেহরান-সংক্রান্ত তাদের দাবিগুলো কিছুটা শিথিল করতে হবে। সোমবার (৪ মে) বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধের সমাপ্তি। অন্য পক্ষকে যুক্তিসংগত অবস্থান নিতে হবে এবং ইরানকে ঘিরে অতিরিক্ত দাবিগুলো পরিত্যাগ করতে হবে।’
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রায় স্থবির হয়ে আছে; এখন পর্যন্ত সরাসরি মাত্র এক দফা আলোচনা হয়েছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। একই সময়ে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এসকর্ট করা শুরু করবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের সতর্কতা দিয়েছে।
বাকেই বলেন, ‘এতদিনে আমেরিকার বোঝা উচিত যে, হুমকি ও শক্তির ভাষা ব্যবহার করে তারা ইরানি জাতির সঙ্গে আচরণ করতে পারে না।‘
তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালি ও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের রক্ষক হিসেবে বিবেচনা করে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘সংঘাত শুরুর আগে এই পথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ ছিল।‘
ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই জলপথে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিশ্বজুড়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।‘
ট্রাম্পের এসকর্ট পরিকল্পনা ঘোষণার আগেই বাকেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, যুদ্ধের অবসানকে কেন্দ্র করে তেহরান ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দিয়েছে।
এমআর/এসএন