© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রংপুরে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্ধান, আটক ২

শেয়ার করুন:
রংপুরে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্ধান, আটক ২

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪৬ এএম | ০৬ মে, ২০২৬
রংপুরে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রটি বিদেশে পাঠানো ও চাকরির প্রলোভনসহ নানাভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত।

আটকরা হলেন- মো. নুরুজ্জামান ও মো. খায়রুল ইসলাম। মঙ্গলবার (০৫ মে) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর অনলাইনে সহজে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান। বিজ্ঞাপনটি দেখে সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান। পরে পুলিশ সুপারের নিদের্শনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নূর নবীর ছেলে মো. নুরুজ্জামান ও ইব্রাহিম আলীর ছেলে মো. খায়রুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, আটটি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, বিকাশ লেনদেনের টালি খাতা, সাতটি ভুয়া পাসপোর্টের কালার ফটোকপি, তিন সেট অস্ট্রেলিয়ান ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, তিন কপি ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা, বায়োমেট্রিক ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আটক নুরুজ্জামান, খাইরুল ও তাদের সহযোগীরা মিলে একটি সাইবার অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছে। তারা বিদেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি, নিশ্চিত ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ক্যাসিনো জুয়া খেলাসহ অনলাইনে বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছিল। এই চক্রে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।এর মধ্যে ২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে সাইবার সুরক্ষা আইনে তারাগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আটককৃতদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আরও ২০ জনের নাম-ঠিকানাও জানিয়েছে। প্রতারক এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নীলফামারীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নে গত ১৩ মার্চ প্রতারক এই চক্রের সদস্য মমিজুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল কুঠিপাড়া গ্রামের নুর হোসনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মমিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসে মানুষকে বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। তাকে গ্রেপ্তারের সময় বিভিন্ন দেশের জাল টাকা, জাল ভিসা ও মোবাইলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের এক অভিযানে একই ইউনিয়ন থেকে সোহেল রানা বাবু (২৫) নামে এই চক্রের আরেক সদস্য গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার সোহেল রানা বাবু বাহাগিলী ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আদর আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দেশের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া, গত বছরের ২৮ অক্টোবর অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকরা হলেন– উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের হামুরহাট এলাকার আনিসুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), কাচারী বাজার এলাকার ময়নুল ইসলামের ছেলে তুহিন ইসলাম (২৫) ও তার সহযোগী শামিম ইসলাম (২০)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রলোভন ও ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ তাদের দু-একজনকে গ্রেপ্তার করলেও কয়েক মাসের মধ্যে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে একই কাজ করছে।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন