ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হলো আরএসএস ও ‘মোদি-তত্ত্ব’
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩০ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. বীরেন্দ্রসিং বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে, সে জন্যই এই নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের মহারাজা সায়াজিরাও ইউনিভার্সিটি অব বরোদার সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব স্টাডিজ এমন কিছু কোর্সের অনুমোদন দিয়েছে, যার মাধ্যমে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে 'মোদি-তত্ত্ব' এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) আদর্শ নিয়ে তৈরি কোর্সগুলো নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়ানোর ক্ষেত্রে একে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কী থাকছে 'মোদি-তত্ত্বে'?
নতুন চালু হওয়া 'মোদি-তত্ত্ব' কোর্সে মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বের ধরন এবং শাসনব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে তার কাজের পদ্ধতি, যোগাযোগের ধরন এবং তার গৃহীত নীতির প্রভাব নিয়ে পড়বেন।
এ ছাড়া 'মেক ইন ইন্ডিয়া'র মতো বড় বড় উদ্যোগ এবং সমাজে সেগুলোর প্রভাব নিয়েও কোর্সে আলোচনা করা হবে।
সংশোধিত পাঠ্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশ হলো আরএসএস নিয়ে বিশদ অধ্যয়ন। শিক্ষার্থীরা এই সংগঠনের উৎপত্তি, ইতিহাস এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে বিশেষ ক্লাস নেওয়া হবে। এ ছাড়া একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আরএসএসের কাজের ধরন ও কাঠামো বোঝার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে পাঠ্যক্রমে।
বোর্ড অব স্টাডিজ মোট চারটি নতুন কোর্সের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা আরও পোক্ত করতে এই কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে।
'অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব' শিরোনামের একটি অংশে বিনায়ক দামোদর সাভারকর, শ্রী অরবিন্দ এবং বি আর আম্বেদকরের দর্শন পড়ানো হবে। একই সঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ এবং তৃতীয় সায়াজিরাও গায়কোয়াড়ের শাসন ও সংস্কারকাজ নিয়েও পড়ানো হবে।
'জাতীয়তাবাদ' নামের আরেকটি অংশে জাতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।
কী বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. বীরেন্দ্রসিং বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে, সে জন্যই এই নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, 'নীতি আয়োগ'-এর মতো সরকারি নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এমনিতেই শাসনব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাই পাঠ্যক্রমে এই বিষয়গুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করাটা একটি স্বাভাবিক পদক্ষেপ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে, এই পরিবর্তনের ফলে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা আরও বাড়বে।
কেএন/এসএন