এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ট্রাফিকের অটো মামলা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫১ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এই মামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হলে দোষী ব্যক্তির অজান্তেই মামলা হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে ডিএমপির আওতাধীন এলাকায় এ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে আজ থেকে। ডিএমপির আওতাধীন এলাকায় এখন ট্রাফিক আইন অমান্য হলেই কিংবা লঙ্ঘন করলে হলে অটো মামলা হয়ে যাবে। এ সংক্রান্ত নোটিশ ডাক যোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে মালিক ও চালকদের।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো.সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণ-বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি ট্রাফিক আইন অমান্যকারী মালিক-চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক-চালকদের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রি করা ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। ওই নোটিশ পাওয়ার পর মালিক-চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক-মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।
আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট মালিক-চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া (সমন/গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্প্রতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা/ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মামলার জরিমানা পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ প্রদান করা হলো। কোনো ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও/সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দিলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
গণ-বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিএমপি সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা এইআই প্রযুক্তিসহ স্থাপন করা হয়েছে এবং এসকল ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল/ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য/স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং, লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল প্রসিকিউশন/মামলা শুরু হয়েছে।
এসএন