মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩২ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নেত্রকোনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক অভিযুক্তের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় মদন থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিকে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে র্যাব-১৪-এর একটি দল সাগরকে গ্রেফতার করে। ওইদিন দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেফতার এড়াতে সাগর বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী হয়ে গৌরীপুরে আত্মগোপন করেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারের আগে মঙ্গলবার (৫ মে) অজ্ঞাত স্থান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ সাগর চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানাবাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
এদিকে, শারীরিক পরীক্ষা করে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে র্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, চিকিৎসকের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ডিএনএ রিপোর্টের তথ্য সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
কেএন/এসএন