© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করতে হবে: নিলোফার চৌধুরী

শেয়ার করুন:
শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করতে হবে: নিলোফার চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩৯ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
শুধু বড় বড় ভবন বা অপ্রয়োজনীয় খাতে বাজেট খরচের আগে শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে জামালপুর থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী (মনি)। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা না থাকলে তারা মন দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারবেন না।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সংগীত, খেলাধুলা ও মানবিক শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া একটি শিশু পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজারে 'সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা' শীর্ষক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। 'এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ' এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে নিলোফার চৌধুরী বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি 'শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু আজ সেই শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরেই অনেক অসঙ্গতি ও বৈষম্য দেখা যাচ্ছে।

যদি শিক্ষার ভিত দুর্বল হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সঠিকভাবে গড়ে উঠবে না। একজন শিক্ষকই জাতির মেরুদণ্ডকে শক্ত ও সোজা রাখেন। অথচ সেই শিক্ষকরাই নানা সমস্যার মধ্যে আছেন। অনেক শিক্ষককে নিজের সংসার চালানো, বেতন পাওয়া, সন্তানের পড়াশোনা চালানো- এসব চিন্তায় থাকতে হয়। তখন তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন না।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক জীবিকা নির্বাহের জন্য একাধিক কাজ করেন। আবার কিছু ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষক কোচিং করিয়ে বিপুল অর্থ আয় করেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এমনও দেখা যায়, যারা কোচিং করে না, তাদের প্রতি আলাদা আচরণ করা হয়। প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে কোচিং করা শিক্ষার্থীরা সুবিধা পায়। এটি অত্যন্ত অন্যায় এবং শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেত্রী। তিনি জানান, এক সময় তার সন্তান একটি নামকরা স্কুলে পড়তো। সেখানে কোচিং না করালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যদের মিশতে নিরুৎসাহিত করা হতো। এতে শিশুদের মনেও বিভাজন তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলাম ও মূল্যবোধের জায়গায় বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। শুধু পরীক্ষার ফল নয়, একজন শিশুকে সৎ, মানবিক ও মানসিকভাবে শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা খুব কম বেতন পান। তবুও তাদের অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফল করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক সাধারণ পরিবারের মা-বাবাকে সন্তানদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য জমি বিক্রি বা গহনা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা কোনো মাদরাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন মানসম্পন্ন শিক্ষা থাকুক যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।

নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, অনেক স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য চলছে। একটি শিশুকে ভর্তি করাতে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। শিশুরা তখন ছোটবেলা থেকেই দেখে, টাকা দিয়ে সবকিছু সম্ভব। ফলে তাদের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। কারণ অনেকে পরে সেই টাকা ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তুলে নিতে চান। এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

শেষে তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কার শুধু সরকারের একার কাজ নয়। নাগরিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব-সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর, সৎ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন