© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের পাল্টা হামলা!

শেয়ার করুন:
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের পাল্টা হামলা!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫০ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কিছু দেশের সহযোগিতায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানি ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপসহ বেশ কিছু বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে আগ্রাসী, সন্ত্রাসী ও দস্যু আখ্যা দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব শহর ও হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং উচ্চ-বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ইরানি আক্রমণের মুখে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।


তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এসব দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের উসকানিমূলক আক্রমণ রুখে দিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে এবং এতে মার্কিন কোনো সম্পদের ক্ষতি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার মুখেও মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি বিশ্বমানের ডেস্ট্রয়ার অত্যন্ত সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তিনি জানান, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ছোড়া মিসাইলগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে এবং ড্রোনগুলোকে আকাশেই ভস্মীভূত করা হয়েছে। উল্টো ইরানি আক্রমণকারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প ডেস্ট্রয়ারগুলোর ক্রুদের প্রশংসা করেন এবং জানান, তারা আবার মার্কিন নৌ-অবরোধে যোগ দেবে।

এর আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এই হামলাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল একটি 'লাভ ট্যাপ' বা 'মৃদু টোকা' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। সেন্টকমও জানিয়েছে যে তারা উত্তেজনা চায় না, তবে নিজেদের সুরক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।

মূলত, গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত 'নৌ-অবরোধ তেহরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ জব্দ করেছে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের বিপরীতে এটিই তেহরানের প্রথম সামরিক প্রতিক্রিয়া। সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভাঙার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

সূত্র: আলজাজিরা

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন