মার্কিন চাপের মাঝেও তেল উৎপাদনে বাজিমাত ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১২ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসন ও নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জ্বালানি খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে ইরান। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ইরান অপরিশোধিত তেল উৎপাদন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতের সময় কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলেও তেল খাতের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শত্রুভাবাপন্ন শক্তির হামলায় যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর পুনর্গঠন কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় পুরোদমে চালু করা হবে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৮ এপ্রিল পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন প্রশাসন লঙ্ঘন করেছে, এমন অভিযোগ তুলে ইরান ওই এলাকায় শত্রুপক্ষের জাহাজের জন্য চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এই অবরোধের মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি এড়িয়ে তিনটি ইরানি ট্যাঙ্কার সফলভাবে তেহরানে ফিরে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম এই বিশাল জাহাজগুলো পাকিস্তানের জলসীমা ব্যবহার করে ইরানের বন্দরে পৌঁছেছে, যা মার্কিন অবরোধকে কার্যত ব্যর্থ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে কেবল সামরিক কৌশল নয় বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুঁজছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিশনের সদস্য আলি খেজরিয়ান জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রণালীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে রাজস্ব আয়ের একটি পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে।
ট্রানজিট ফি, সামুদ্রিক পরিষেবা এবং উন্নত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ থেকে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের জন্য এই জলপথ রুদ্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই অবরোধকে তারা জলদস্যুতা হিসেবেই বিবেচনা করছে।
এসকে/টিকে