ইউএফও নিয়ে পেন্টাগনের কয়েক দশকের গোপন নথি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৬ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
মহাকাশে রহস্যময় বস্তু বা ইউএফও নিয়ে কয়েক দশকের গোপনীয়তা ভাঙল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন শুক্রবার (৮ মে) ১৬১টি নথিপত্র প্রকাশ করেছে। এই ফাইলগুলোতে চাঁদে যাওয়া অ্যাপোলো অভিযানের নভোচারী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের দেখা বিচিত্র মহাজাগতিক অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে ১৯৬০ ও ৭০- এর দশকের অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের বিখ্যাত মহাকাশচারী বাজ অলড্রিন জানিয়েছিলেন, চাঁদে যাওয়ার পথে তিনি ব্যাখ্যাতীত উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখেছিলেন। একইভাবে অ্যাপোলো ১২ ও অ্যাপোলো ১৭ মিশনের নভোচারীরাও মহাকাশে আলোর ঝলকানি ও রহস্যময় কণা উড়তে দেখার কথা নথিতে উল্লেখ করেছেন। ১৯৬৫ সালের জেমিনি ৭ মিশনের অডিও রেকর্ডিংয়ে নভোচারীদের একটি অজ্ঞাত বস্তু বা ‘বোগি’ নিয়ে গ্রাউন্ড সাপোর্টের সাথে কথা বলতে শোনা যায়।
শুধু মহাকাশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ইউএফও দেখার কয়েক ডজন রিপোর্ট এই ফাইলে স্থান পেয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্যামেরায় ধরা পড়া রহস্যময় ডিম্বাকৃতির বস্তুর ভিডিও। ১৯৫৭ সালে এফবিআই-কে দেওয়া এক ব্যক্তির জবানবন্দি থেকে শুরু করে ২০২৩ সালে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দেখা ভাসমান ধাতব বস্তুর বর্ণনা।
চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ফাইলগুলো প্রকাশের নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনগ্রহের প্রাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস এ বিষয়ে ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শুনানি আয়োজন করে এবং সামরিক বাহিনী স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে অনেক আইনপ্রণেতা স্বচ্ছতার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও ইরানের সাথে যুদ্ধের মতো জরুরি বিষয়গুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই এই তথ্যগুলো এখন সামনে আনা হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ১৬১টি ফাইল বর্তমানে তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত আরো নথিপত্র প্রকাশ করা হবে।
সূত্র : বিবিসি
এসকে/টিএ