রাজনীতির নামে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতুন রাজনীতি হতে পারেনা: রাশেদ
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৩ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনীতির নামে ধর্মীয় আবেগ ও শহীদদের স্মৃতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে এনসিপি।
শনিবার (৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘রাজনীতির নামে ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতুন রাজনীতি হতে পারেনা।’
পোস্টে তিনি শহীদ ওসমান হাদির বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে দাবি করেন, জীবিত অবস্থায় এনসিপির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন ওসমান হাদি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদি এনসিপির তিনটি ‘অপরাধ’ চিহ্নিত করেছিলেন।
রাশেদ খান লিখেছেন, ওসমান হাদি বলেছিলেন, ‘ঠিক ৭১- এর মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে আওয়ামীলীগ কুক্ষিগত করেছে, এনসিপি সেভাবে জুলাইকে কুক্ষিগত করেছে।’ এছাড়া তিনি এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মাত্র ৮-১০ মাসের মধ্যে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হতে পারে?’
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ওসমান হাদি অভিযোগ করেছিলেন যে, এনসিপি জুলাইয়ের বৃহত্তর ঐক্য নষ্ট করেছে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শক্তিকেও দুর্বল করে দিয়েছে।
রাশেদ খান দাবি করেন, জীবিত অবস্থায় ওসমান হাদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতারা ‘এড়িয়ে চলতেন’, কিন্তু মৃত্যুর পর তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘শহীদ হওয়ার পরে হয়ে গেলেন এনসিপির আইডল। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে এনসিপির সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলো।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সত্যিই ওসমান হাদির আদর্শ ধারণ করেন, নাকি তাকে রাজনৈতিক ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজে যাওয়ার আগে ফেসবুকে পোস্ট ও গুগল ম্যাপ শেয়ার করেন, যার ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।
রাশেদ খানের অভিযোগ, ‘তিনি খুব জনপ্রিয় হয়েছেন, এটা দেখানোর জন্য তিনি তার পিআর টিম নিয়ে মসজিদে যাচ্ছেন। জোট ও দলের নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন এবং সারাদেশের মানুষকে দেখাচ্ছেন যে, তাকে এক নজর দেখার জন্য সবাই মসজিদে নামাজে এসেছে।’
নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মুসল্লিরা এতে বিরক্ত হয়েছেন।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা সবাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। কিন্তু যখন কোনো শহীদকে নিয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতি করা হয়, তখন ধীরে ধীরে তার সার্বজনীনতা নষ্ট হতে থাকে।’
এসকে/টিএ