গ্ল্যামার জগতের অন্ধকার দিক তুলে ধরলেন তানিশা মুখার্জি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০২ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
বলিউডের গ্ল্যামার জগতে টিকে থাকতে হলে নির্দিষ্ট শারীরিক মান বজায় রাখার চাপ বহু তারকাকেই দীর্ঘদিন ধরে ভোগাচ্ছে। সেই চাপের অভিজ্ঞতা এবার প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী তানিশা মুখার্জি। কাজল ও তনুজার কন্যা তানিশা জানালেন, ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নীল অ্যান্ড নিক্কি’ ছবির সময় নিজের শরীরকে নির্দিষ্ট রূপে গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি ভয়াবহ শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তানিশা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছবির প্রস্তুতির সময় প্রযোজক আদিত্য চোপড়া তাঁর শরীরের গঠন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন। চরিত্রের প্রয়োজনে শরীর আরও স্লিম ও নির্দিষ্টভাবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন কঠোরভাবে সেই নির্দেশ মেনে চলার। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই পরে তাঁর জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

তানিশা জানান, ছবির জন্য প্রথম দফার ছবি তোলার পর তাঁর শরীর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপরই শুরু হয় কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক অনুশীলনের ধারা। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে তিনি এতটাই মনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন যে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য উপেক্ষা করেছিলেন। এক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত রূপ পাওয়া গেলেও এর পরিণতি ছিল মারাত্মক।
অভিনেত্রীর ভাষায়, এই ধরনের অতিরিক্ত চাপ শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। সেই সময় অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম মেনে চলার ফলে তাঁর শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় বলে তিনি জানান। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, বাহ্যিক রূপের চেয়ে শরীরের সুস্থতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৫ সালের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও তেমন ইতিবাচক সাড়া পায়নি। তবে তানিশা জানান, এই ব্যর্থতাকে তিনি জীবনের শিক্ষা হিসেবে নিয়েছেন।
২০০৩ সালে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করলেও তানিশার পেশাগত জীবন তেমন উজ্জ্বল হয়নি। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণী একটি ছবির জন্য প্রশংসিত হন। এরপর বাস্তবভিত্তিক টেলিভিশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি আবার আলোচনায় আসেন। একাধিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যায়।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর তানিশা এখন মনে করেন, চলচ্চিত্র জগতের সৌন্দর্যের মানদণ্ডের চেয়ে নিজের শরীরের সুস্থতা এবং স্বাভাবিক জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এসএ /টিএ