© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা: কর্নেল অলি

শেয়ার করুন:
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা: কর্নেল অলি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১১ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, আমরা বলেছি- আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যার ফলে আজকে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) রাতে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

“গণভোটের রায়, জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ” শীর্ষক সেমিনার বিকেল ৫টায় মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমিন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ড. অলি বলেন, ‘গত কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে।

সেখানেও বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে, হাসিনার পরামর্শ মতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। নির্বাচনে জেতার পর থেকে সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পত্রপত্রিকায় দেখলাম সেখানে মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে টেনে নির্যাতন করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি এসব বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসেন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। দেশে সারসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুনখারাবি বেড়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এসব উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হোন।’

প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে সালাউদ্দিন সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় এমন কথা বলেছেন। কিন্তু উনারা গণভোট অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলছেন না কেন? কারণ বিএনপি জুলাই সনদ জুলাইয়ের স্পিরিট নয়, নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চান। বিএনপি জুলাই সনদে যে ১০টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন সেগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার। এসব নোট অব ডিসেন্ট ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে।’

বল সরকারের কোর্টে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বল এখন জামায়াতের কোর্টে নেই। বল আপনাদের কোর্টে। আপনারা যদি ভুল করেন তাহলে আপনাদের বারেই ঢুকে যাবে। তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন, পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। প্রবন্ধ উপস্থাপনে তিনি বলেন, ‘গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ। অতীতে ১৯৮৫, ১৯৯৬ ও ১/১১- এর সংকট এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে জনগণের সরাসরি রায় অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, কলম্বিয়ার নজিরও তাই বলে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পাটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি উপ-প্রধান সরোয়ার তুষার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, লেবার পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম নগর, উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।   

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন