সব মামলায় জামিন পেলেন খায়রুল হক, কারামুক্তিতে বাধা নেই
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৬ পিএম | ১২ মে, ২০২৬
চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এর আগে হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির ৫ মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিলেন, স্থগিত চেয়ে আবেদন করলেও আপিল বিভাগেও জামিনের আদেশ বহাল থাকে। ফলে তার কারামুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
মঙ্গলবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই মামলায় তাকে জামিন দেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এ দুই মামলায় কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, জানতে রুলও জারি করেছেন আদালত।
খায়রুল হকের জামিন আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘সাত মামলার সব কয়টি মামলায় তিনি এখন জামিনপ্রাপ্ত। ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞা বলেন, ‘লিখিত আদেশ পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকার সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছিলেন আপিল বিভাগ। রায় ঘোষণার ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। তখন তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।
গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিন দুদকও একটি মামলা করে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। এ ছাড়া গত বছর ২৫ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল বারী ভূঁইয়া। পরদিন রায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে নারায়ণগেঞ্জের বন্দন থানায় মামলা করেন মো. নূরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। তার পরদিন রায় জালিয়াতির সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ এনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। এসব মামলায় গ্রেপ্তার থাকা অবস্থায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর যাত্রবাড়ী থানায় মামলাটি করেছিলেন নিহত আরিফের বাবা বাবা মো. ইউসুফ। আর গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যার ঘটনায় আদাবর থানার মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এসব মামলায় ৯ মাস ধরে কারাগারে আছেন এ বি এম খায়রুল হক। এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। এসব আবেদনে শুনানির পর গত বছর ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুল দেন। গত ৪ মার্চ রুলে শুনানি শেষ হলে ৮ মার্চ হত্যা-জালিয়াতির চার মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় তাকে নিয়মিত জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে এই পাঁচ মামলার জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৮ এপ্রিল চেম্বার আদালত এসব আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। গত ২৮ এপ্রিল এসব আবেদনে শুনানির পর পাঁচটি আবেদনই খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে খায়রুল হককে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল থাকে।
এবি/টিএ