© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিরোধী দলে ভাঙনের সুর, আস্থা ভোটের আগে স্বস্তিতে বিজয়

শেয়ার করুন:
বিরোধী দলে ভাঙনের সুর, আস্থা ভোটের আগে স্বস্তিতে বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৪ পিএম | ১২ মে, ২০২৬
তামিলনাড়ুর বিধানসভায় বুধবারের (১৩ মে) অগ্নিপরীক্ষার আগে বড় ধরনের স্বস্তি পেলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। আস্থা ভোটের ঠিক আগের দিন প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকের ৩০ জন বিদ্রোহী নেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্ষীয়ান নেতা এস পি ভেলুমণি ও সি ভি শানমুগমের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহীরা বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

গত ২৩ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকের ভরাডুবির পর থেকেই দলীয় প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ১৬৪টি আসনে লড়ে দলটি মাত্র ৪৭টি আসন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ একদল নেতা এবার বিজয়ের ‘তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম’ (টিভিকে)-র দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন।

বিদ্রোহী নেতা সি ভি শানমুগম অভিযোগ করেছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক পালানিস্বামী ডিএমকের সমর্থনে সরকার গঠন করতে চেয়েছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এমজিআর ও আম্মা (জয়ললিতা) ডিএমকের বিরোধিতা করার জন্যই এই দল গড়েছিলেন। ডিএমকের সঙ্গে হাত মেলানো দলের আদর্শের পরিপন্থি। আমরা রাজ্যে ‘আম্মার শাসন’ ফিরিয়ে আনতে চাই, তাই বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিদ্রোহীদের এই সমর্থনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সি ভি শানমুগমের বাসভবনে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।

বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ এআইএডিএমকে নেতৃত্ব। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের জেলায় জয় নিশ্চিত করতে না পেরে এই নেতারা এখন ‘মিথ্যার ঝুলি’ খুলে বসেছেন। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দলটি দাবি করেছে, ভেলুমণি ও শানমুগমরা মূলত বিজয়ের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতেই এই ‘নাটক’ করছেন। ডিএমকের সঙ্গে কোনো ধরনের আঁতাতের দাবিও নাকচ করে দিয়েছে দলটি।

প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই ১০৮টি আসন পেয়ে চমক দেখিয়েছে বিজয়ের টিভিকে। তবে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। এরই মধ্যে কংগ্রেস, সিপিআই ও সিপিএম বিজয়কে সমর্থন দিয়েছে। এবার এআইএডিএমকের ৩০ জন বিদ্রোহী নেতার সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের সামনে আস্থা ভোট এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় আম্মা মাক্কাল মুনেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন বিধায়ক এস কামরাজ। দলের সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দিনাকরণ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কামরাজকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বুধবারের আস্থা ভোটের আগে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৯৮৭ সালে এমজিআর এবং ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে যে ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন