দেবের পর কি এবার রাজনীতিতে নামছেন জিৎ?
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৯ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
টলিউড সুপারস্টার জিৎ বরাবর নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ দাবি করে এসেছেন। নিরপেক্ষ বলে নিজেকে সবরকম রাজনীতির বাইরে থাকেন জানিয়ে মতামত দিতেন। সেই তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষে জয়ী দল বিজেপিকে অভিনন্দন জানান ফেসবুকে। এরপরই শুরু হয় আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জিৎকে রাজনৈতিকভাবে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দিয়ে ট্রল করা হচ্ছে।
তাতে এই অভিনেতা থেমে নেই। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেয়ার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছেন, বাংলায় নতুন সকাল আনবে বিজেপি সরকার। তার এসব বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।
সেইসঙ্গে উঠেছে প্রশ্ন, অভিনেতা দেবের পর কি এবার রাজনীতির ময়দানে নামতে যাচ্ছেন ‘গুপ্ত’ জিৎ? সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা শেয়ার করেন জিৎ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বাংলার জন্য এক নতুন সকাল, এক নতুন আলোর দিশা নিয়ে আসবে।’

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মোদি গ্যারান্টি’র প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। জিৎ আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার গৌরব, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার এই বক্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন টলিউডের অনেকে।
এর আগেও ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিৎ। কিন্তু তখন তিনি এমন কোনো রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশ্যে দেননি বলেই দাবি বিনোদন অঙ্গনের একাংশের।
অন্যদিকে দেব ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি অভিনয় নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে চান এবং রাজনীতিতে আর সক্রিয় হতে চান না। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, টলিউডে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই কি জিতের এই অবস্থান?
এদিকে জিতের নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটি বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবন নিয়ে নির্মিত। তাই অনেকের ধারণা, দেশাত্মবোধক বার্তার মাধ্যমে হয়তো নিজের সিনেমার প্রচারণাও চালাচ্ছেন অভিনেতা।
তবে জিৎ এখনো সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে টলিউডে জল্পনা-কল্পনা চললেও বিষয়টি সময়ের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন সবাই।
এসএ/এসএন