আয়ের দিক থেকেও সবার উপরে মেসি, বার্সেলোনায় কিনলেন নতুন সাম্রাজ্য
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫১ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আয়ের দিক থেকেও মেজর লিগ সকারে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন ইন্টার মায়িামির এই তারকা। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বেতন তালিকায় দেখা গেছে, ইন্টার মায়ামির এই অধিনায়ক লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আয় করছেন।
গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সাথে ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের নতুন চুক্তি করেন মেসি। এই চুক্তির অধীনে তার বার্ষিক মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলার। এর সাথে গ্যারান্টিড কমপেনসেশন বা নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ যোগ করলে তার মোট আয় দাঁড়ায় ২৮,৩৩৩,৩৩৩ ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ কোটি। ২০২৩ সালে যখন তিনি প্রথম মায়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তার মূল বেতন ছিল ১২ মিলিয়ন ডলার।
মেসির পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি-র দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিন। ৩৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের মোট আয় ১১.১৫ মিলিয়ন ডলার। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইন্টার মায়ামির আরেক তারকা রদ্রিগো ডি পল (৯.৬৮ মিলিয়ন)। শীর্ষ ৫-এ আরও আছেন মিগুয়েল আলমিরন এবং হিরভিং লোজানো।
লিওনেল মেসির এই বিশাল বেতনের প্রভাবে ইন্টার মায়ামির মোট পে-রোল (বেতন বাজেট) দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬ মিলিয়ন ডলারে, যা লিগের সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এলএএফসি-র খরচ ৩২.৭ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন পুরো দলের পেছনে খরচ করছে মাত্র ১১.৭ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মায়ামির বাজেট ফিলাডেলফিয়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
বার্সেলোনায় মেসির নতুন সাম্রাজ্য
এদিকে, স্পেনের বার্সেলোনা শহরের অভিজাত এলাকায় একটি বিশাল বাণিজ্যিক ভবন কিনেছেন মেসি। বার্সপলার অন্যতম আকর্ষণীয় এবং প্রিমিয়াম এলাকা তুরো পার্কে অবস্হুত ভবনের দাম পড়েছে ১৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা)৷ এই কর্পোরেট ভবনটি এক সময় বিখ্যাত 'ভিয়া ওয়াগনার' গ্যালারি হিসেবে পরিচিত ছিল।
এটি একটি ঐতিহাসিক শপিং সেন্টার। প্রায় ৩০ বছর পরিত্যক্ত পড়েছিল। মেসির পরিকল্পনা হলো ৬ তলা বিশিষ্ট এই ৪৩,০০০ বর্গফুটের ভবনটিকে সংস্কার করে আধুনিক কমার্শিয়াল সেন্টারে রূপান্তর করা। মেসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য মূলত রিয়েল এস্টেট এবং হোটেল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তার মালিকানাধীন MiM (Majestic i Messi) হোটেল চেইন ইতোমধ্যেই স্পেনের ইবিজা, সিজেস এবং বাকেইরা বেরেটের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেশ সফল। নতুন এই বাণিজ্যিক ভবনটি তার স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় একটি মূল্যবান সংযোজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরো পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ভবনের মালিকানা পাওয়া দীর্ঘমেয়াদী আয়ের একটি বড় উৎস। ভবনটি প্রিমিয়াম অফিস স্পেস বা কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। ফুটবল থেকে অবসরের পর নিজের আর্থিক অবস্থাকে আরও সুসংহত করতেই মেসি বার্সেলোনার মতো পরিচিত শহরে এই বিশাল বিনিয়োগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসকে/টিকে