ইরান ইস্যুতে ৩৯টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: এড কেস
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩১ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ৩৯টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য এড কেস। একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রকাশনার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার তিনি এই তথ্য জানান।
একটি বিশেষ সিনেট কমিটির শুনানিতে পেন্টাগনের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার জে হার্স্টকে প্রশ্ন করার সময় এড কেস এই মন্তব্য করেন। তিনি হার্স্টের কাছে জানতে চান, এই সংঘাতের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ পেন্টাগন নিরূপণ করেছে কি না।
এড কেস বলেন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার জোন- এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা প্রায় ৩৯টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছি। প্রতিবেদনটি প্রায় এক মাস পুরনো। আমি জানতে চাই, পেন্টাগন কি এই বিমানগুলোর প্রতিস্থাপন বা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসাব করেছে?
জবাবে পেন্টাগন কর্মকর্তা জে হার্স্ট তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ আমি আপনাকে লিখিতভাবে জানাব। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, একটি বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের মেরামতের খরচ হিসাব করা অত্যন্ত জটিল কাজ। কোনো খরচ নিরূপণের আগে আমরা বিমানগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাই।
দ্য ওয়ার জোন-এর ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান সংঘাত চলাকালীন মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩,০০০ বার আকাশপথে অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৩৯টি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ ফাইটার জেট আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্মকর্তারা শুনানির সময় জনসমক্ষে এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি নিশ্চিত করেননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালালে এই আঞ্চলিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এসকে/টিকে